
লক্ষ্মীপুরে এক ১২ বছর বয়সী শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে পপুলার আইডিয়াল হিফজ মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (১৯ জুলাই) রাতে স্থানীয়দের সহায়তায় চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষককে মাদ্রাসার প্রাঙ্গণ থেকেই আটক করে।
ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (১৮ ১৮ জুলাই) রাত আনুমানিক ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে হিফজ বিভাগের ওই কোমলমতি শিক্ষার্থীকে নিজের কক্ষে ডেকে নেন মাদ্রাসার প্রধান মাওলানা আব্দুল আহাদ (৪৫)। সেখানে তার ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরদিন দুপুরে শিশুটি সুযোগ বুঝে মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে নিজ বাড়িতে চলে যায় এবং স্বজনদের কাছে পুরো ঘটনার বর্ণনা দেয়।
ঘটনাটি জানাজানি হতেই এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। রোববার রাতে স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্ষুব্ধ অভিভাবকেরা মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে নিজেদের জিম্মায় নেয় এবং ভুক্তভোগী শিশুকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
যৌন নির্যাতনের পর থেকে শিশুটি চরম মানসিক ট্রমা ও আতঙ্কের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তার পরিবারের সদস্যরা। ভয়ে সে আর ওই প্রতিষ্ঠানে ফিরে যেতে চাইছে না। এই জঘন্য ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের কঠোর শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন স্বজনেরা।
ঘটনার পর রোববার রাতেই ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে চন্দ্রগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর আজ সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে অভিযুক্তকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রব জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে শিশুটিকে বলাৎকারের অভিযোগের পক্ষে আলামত ও সত্যতা পাওয়া গেছে। পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে আসামি মো. আবদুল আহাদকে আদালতের সোপর্দ করা হয়েছে। ঘটনার পেছনের আরও বিশদ তথ্য বের করতে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং প্রাপ্ত তথ্যের আলোকে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।