
আশুলিয়ায় জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় ছয়জনের লাশ পোড়ানো এবং সাতজনকে হত্যার ঘটনায় দায়ী আট আসামিকে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। মামলাটি মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় তদন্ত ও বিচারাধীন।
প্রিজনভ্যানে করে কারাগার থেকে আসামিদের ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। এদিন রায় ঘোষণা করবেন ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল।
গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, তৎকালীন ডিবি পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, এসআই শেখ আবজালুল হক এবং কনস্টেবল মুকুল।
পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক এমপি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপন, আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি এএফএম সায়েদ রনি, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) নির্মল কুমার দাস, সাবেক এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রনি ভূঁইয়া।
মামলায় মোট ৫৩ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় গত ১৫ সেপ্টেম্বর এবং শেষ হয় চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি। প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন শহীদ আস সাবুরের ভাই রেজওয়ানুল ইসলাম ও শহীদ সাজ্জাদ হোসেন সজলের বাবা মো. খলিলুর রহমান। ২২ কার্যদিবসে তদন্ত কর্মকর্তা জানে আলম খানসহ ২৪ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়।
এরপর আসামি আরাফাত হোসেন সাফাই সাক্ষ্য প্রদান করেন। ১৪ জানুয়ারি প্রসিকিউশন তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে এবং ২০ জানুয়ারি আসামিপক্ষসহ উভয় পক্ষের যুক্তি খণ্ডন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখে ট্রাইব্যুনাল।
এ মামলায় পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের এটি তৃতীয় রায়। ১ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন প্যানেল।
এই ঘটনায় শহীদ হয়েছেন সাজ্জাদ হোসেন সজল, আস সাবুর, তানজিল মাহমুদ সুজয়, বায়োজিদ বোস্তামী, আবুল হোসেন, ওমর ফারুক এবং মোহাম্মদ শাহাবুল ইসলাম।
গত ২১ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল-২ বিচার শুরুর আদেশ দেন। উপস্থিত আট আসামির সাতজন নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন, তবে এসআই শেখ আবজালুল হক দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন। ২ জুলাই আদালত প্রসিকিউশনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গ্রহণ করেন। প্রসিকিউশন ৩১৩ পৃষ্ঠার তথ্য, ১৬৮ পৃষ্ঠার দালিলিক প্রমাণ এবং দুটি পেনড্রাইভ যুক্ত করেছেন।
রায় ঘোষণার দিন ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ, র্যাব, বিজিবি এবং সেনাবাহিনী দায়িত্বে নিয়োজিত, পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও তৎপর রয়েছেন।