.jpeg)
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কোষাধ্যক্ষ (ট্রেজারার) পদে বহিরাগত কাউকে নিয়োগ না দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষকদের মধ্য থেকে যোগ্য ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছে জবি শিক্ষক সমিতি। একই সঙ্গে এ দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে ‘টিম জগন্নাথ’ গড়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। দাবি উপেক্ষা করে বাইরে থেকে ট্রেজারার নিয়োগ দেওয়া হলে কর্মবিরতি, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার মতো কর্মসূচি দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
রোববার (২৬ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক লাউঞ্জে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক সমিতির নেতাদের পাশাপাশি কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থেকে এ দাবির প্রতি সংহতি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশক্তির মুখ্য সংগঠক ফেরদাউস শেখ অতীতের নিয়োগ প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে বলেন, ‘বিগত সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা ছাত্রলীগ করতো, তাদের পুরস্কার হিসেবে জবিতে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। আমরা এ ধরনের কোনো বৈষম্য আর দেখতে চাই না।’
দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি আব্দুল হালিম বলেন, ‘বাইরে থেকে কোষাধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়া হলে কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতি সরাসরি কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হবে।’
জকসুর এজিএস মাসুদ রানা প্রশাসনের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, ‘জবি থেকে কোষাধ্যক্ষ নিয়োগ না দেওয়া হলে প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হবে।’
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা নিয়েও বক্তব্য দিয়ে তিনি দাবি করেন, নতুন শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে অন্তত ৮০ শতাংশ শিক্ষক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে নেওয়া উচিত।
তবে এ বিষয়ে ভিন্ন মত দেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক। তিনি বলেন, ‘৮০ শতাংশ নয়, মেধার ভিত্তিতে জবির শিক্ষার্থীদের শিক্ষক হওয়ার সুযোগ এর চেয়েও বেশি হওয়া উচিত।’
লিখিত বক্তব্য পাঠ এবং সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক বলেন, ‘আমরা যদি নিজেদের প্রতিষ্ঠান থেকে ট্রেজারার তৈরি করতে না পারি, তবে সেটি আমাদের জন্য চরম ব্যর্থতা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ ও সমস্যাগুলো নিজস্ব শিক্ষকরা যেভাবে বুঝবেন, বাইরের কেউ এসে সেভাবে বুঝতে পারবেন না। বারবার জবিকে উপেক্ষা করে বাইরে থেকে পদে নিয়োগ দেওয়া বৈষম্যের শামিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের শিক্ষকরা যদি অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য কিংবা কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনে সক্ষম হন, তাহলে নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন বাইরের কাউকে কোষাধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়া হবে? বর্তমানে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৪৫ জন অধ্যাপকসহ মোট ৭৩২ জন যোগ্য শিক্ষক রয়েছেন। তাই ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ বা অন্য যেকোনো অনুষদ থেকেই জবির যোগ্য কাউকে এ পদে নিয়োগ দিতে হবে।’
শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ড. মঞ্জুর মোর্শেদ ভূঁইয়া বলেন, ‘শিক্ষক সমিতি শুধু শিক্ষকদের সংগঠন নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে।’
সংবাদ সম্মেলনের শেষাংশে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত ‘টিম জগন্নাথ’ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব যৌক্তিক দাবিতে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।