
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চললেও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে এই সফর হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি জানান, নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার বার্তা নিয়েই জাতিসংঘে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সিলেট নগরীর একটি হোটেলে কর্মরত টেলিভিশন সাংবাদিকদের সংগঠন ইমজা নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
ভারত সফর নিয়ে আলোচনা চলমান
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, সফরের দিন-তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ নিয়ে কথাবার্তা অব্যাহত রয়েছে। তবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের কোনো সম্ভাবনা নেই।
তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার বার্তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে যাবেন। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতের সাথে হাজার সমস্যা থাকলেও আলোচনার পথ বন্ধ নেই। প্রতিবেশী হিসেবে ভারতের সাথে সুসম্পর্কই থাকা উচিত।’
জ্বালানি খাতের সংকট নিয়ে প্রতিমন্ত্রীর মন্তব্য
জ্বালানি সংকট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, কীভাবে একটি সাইকোপ্যাথিক দুর্নীতি করা যায়, এনার্জি সেক্টর দেখলে তা বোঝা যাবে।
তবে তার দাবি, প্রধানমন্ত্রী জ্বালানি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। একই সঙ্গে জ্বালানি খাতের সংকট কাটাতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে
মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে।
তিনি বলেন, ‘মক্কা চুক্তি নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে। এতে যুক্ত হওয়া বাংলাদেশের জন্য অস্বাভাবিক নয়। অনেক দেশই এখন একাধিক নিরাপত্তা জোটে থাকছে। জাতীয় ইন্টারেস্টের ভিত্তিতে যেখানে যাওয়া দরকার, সেখানে যাওয়া হবে।’
আমেরিকা থেকে বোয়িং কেনার কারণ কী
আমেরিকার কাছ থেকে বোয়িং কেনার প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে কেউ চাপ দিচ্ছে না। দেশের প্রয়োজন ও চাহিদা বিবেচনা করেই আমেরিকা থেকে বোয়িং কেনা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বোয়িং কিনতে হবে এটা কেউ চাপিয়ে দিচ্ছে না। চাহিদা আছে বলেই আমেরিকা থেকে বোয়িং কেনা হচ্ছে, প্রয়োজনে আরও কেনা হবে।’
মালয়েশিয়ায় শ্রমশক্তি রপ্তানিতে সিন্ডিকেট ভাঙার দাবি
মালয়েশিয়ায় শ্রমশক্তি রপ্তানির প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আওয়ামী লীগ আমলের সিন্ডিকেটের কথা উল্লেখ করেন। তার দাবি, ওই সিন্ডিকেটের কারণে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ থেকে শ্রমশক্তি রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আওয়ামী আমলের সিন্ডিকেটের কারণে মালয়েশিয়ায় শ্রমশক্তি রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। বর্তমান সরকার এই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়েছে। ধাপে ধাপে শ্রমশক্তি রপ্তানি হবে।’
কলকাতায় বাংলাদেশি নাগরিকদের হোটেল না পাওয়া এবং তাদের রাস্তায় রাত কাটানোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে হুমায়ুন কবির বলেন, নির্দিষ্ট কোনো ঘটনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নজরে আনা হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘স্পেসিফিক উদাহরণ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নজরে আনলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
শেখ হাসিনাকে ভারতে ‘রিস্ট্রেইন’ করে রাখার দাবি
বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের প্রসঙ্গেও কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে মানুষ হত্যার সঙ্গে জড়িত হয়ে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া বহু ব্যক্তি ভারতে অবস্থান করছেন বলে তার বক্তব্য।
হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘এখান থেকে পালিয়ে যাওয়া সন্ত্রাসী, দেড় হাজার না আরো কত হাজার আল্লাহই জানে! মানে সব হিসাব-কিতাব করলে ১৫ বছরে মানুষ মেরে ওখানে পালিয়ে আছে। তো, ওখান থেকে যদি তারে স্পেস দেওয়া হয়, তাহলে তো বাংলাদেশের মানুষের অ্যাগেইনস্টে যাবে। তখন দেয়ার ইজ প্রেশার ফর...বিকজ আমাদের ফরেন রিলেশনসের এনগেজমেন্টটা হচ্ছে মানুষের ন্যাশনাল ইন্টারেস্টের ভিত্তিতে।’
এরপর তিনি বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতে নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া সন্ত্রাসী শেখ হাসিনাকে রিস্ট্রেইন করে রাখতে হবে। এটা তো আসলে খুব বড় আস্ক (প্রশ্ন) না। আমরা তো ভারত থেকে পালিয়ে আসা কোনো সন্ত্রাসীকে এখানে জায়গা দেব না। ইনফ্যাক্ট, কোনো লেজিটিমেট পলিটিশিয়ানকে ভারত থেকে এসে বাংলাদেশে বসে ইন্ডিয়ার গভর্নমেন্টের অ্যাগেইনস্টে ব্রিফিং করা, এটা তো এলাও করব না।’
অনুষ্ঠানে যারা উপস্থিত ছিলেন
আলোচনায় আরও উপস্থিত ছিলেন সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ সিদ্দিকী।