
নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর পেরিয়ে গেছে ১০ দিন, কিন্তু রংপুর ৪ আসনে উত্তাপ এখনো কমেনি। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের হারাগাছ সফরকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রংপুর-৪ আসনে পরাজিত বিএনপি প্রার্থী ও তার সমর্থকেরা এখনো নির্বাচনী ফল মেনে নেননি। রমজান শুরুর আগে টানা চারদিন হারাগাছ, পীরগাছা ও কাউনিয়ায় বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা। এর ধারাবাহিকতায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেনের হারাগাছ সফরের প্রতিবাদে প্রথমে হরতালের ডাক দেওয়া হলেও পরে তা প্রত্যাহার করে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার ২২ ফেব্রুয়ারি হারাগাছ পৌর বিএনপি এ কর্মসূচি পালন করবে।
শনিবার রাত ৮টার দিকে হারাগাছ পৌর শহরের হকবাজার এলাকায় ‘রংপুর ৪ এর সাধারণ ভোটারের’ ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিল শেষে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেন পৌর বিএনপির সভাপতি মোনায়েম হোসেন ফারুক। সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সম্পাদক নুরুল আমীন দাজু ও সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশিদ সমাপ্তি।
বক্তারা অভিযোগ করেন, জনগণের রায় ছিনতাই করে এমপি হওয়ার পর আখতার হোসেন ইচ্ছাকৃতভাবে হারাগাছ সফরের কর্মসূচি নিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজমান থাকা অবস্থায় এই সফর অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা। তারা সাধারণ মানুষকে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
এর আগে শনিবার বিকেলে মাইকিং করে সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত হরতালের ডাক দেওয়া হয়েছিল। তবে রমজানে জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনায় নিয়ে হরতাল প্রত্যাহার করে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ থাকার সিদ্ধান্ত নেয় হারাগাছ পৌর বিএনপি।
অন্যদিকে রোববার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত হারাগাছ পৌর এলাকায় স্থানীয়দের সঙ্গে কুশল বিনিময়, শহীদ লাভলুর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং হারাগাছ থানা পরিদর্শনের সূচি রয়েছে রংপুর ৪ পীরগাছা কাউনিয়া আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেনের।
এ বিষয়ে হারাগাছ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অশোক চৌহান জানান, রোববার এমপির সফর ঘিরে কেউ যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে, সে জন্য পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর ৪ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী আখতার হোসেন শাপলা প্রতীকে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এমদাদুল হক ভরসা পান ১ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৪ ভোট।
নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেন এমদাদুল হক ভরসা। তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন এবং ভোট পুনর্গণনার দাবি তোলেন। নির্বাচনের পরদিন থেকেই তার সমর্থকেরা হারাগাছ, পীরগাছা ও কাউনিয়ায় টানা চারদিন বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও সড়ক অবরোধ পালন করেন। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করে পুনর্গণনা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
এদিকে ভোররাতে ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে আখতার হোসেন নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে হারাগাছে তার দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের দিন বিভিন্ন কেন্দ্রে তার পক্ষে থাকা শাপলা কলির কর্মী-সমর্থক ও পোলিং এজেন্টদের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করা হয়েছে।
স্ট্যাটাসের শুরুতে আখতার হোসেন লিখেছেন, সরকার গঠন করেছে বিএনপি আর নতুন সরকারের আমলে প্রথম হরতাল হচ্ছে বিরোধীদলের সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে। রংপুর-৪ এর হারাগাছে আজ আমার বিরুদ্ধে হরতাল ডেকেছে এমদাদুল ভরসার পৌর বিএনপি। এনারা আসলে বিএনপি করেন না, ভরসা করেন। কিন্তু বিএনপির সরকার গঠনের আভাস পাওয়ার পর থেকে বাড়িঘর ভাঙচুর, লোক পেটানো, রক্তাক্ত করা, লুটপাট, ভয়ভীতি দেখানো, আন্দোলনের নামে সহিংসতা সব করছে বিএনপির নামে।
স্ট্যাটাসের শেষাংশে তিনি লিখেছেন, আমার হারাগাছে আসা নিয়ে যদি কিছু ঘটে তার দায় ভরসা এবং বিএনপির হাইকমান্ডকে নিতে হবে। আমরা হারাগাছের নিপীড়িত শ্রমিকদের পক্ষে কাজ করে যাব ইনশাআল্লাহ।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে কাউনিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও রংপুর ৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।