
ঢাকার একটি আদালত চিত্রনায়ক সালমান শাহকে হত্যার মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন দিন ধার্য করেছেন। আগামী ৯ এপ্রিল পর্যন্ত এটি দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলায় তার স্ত্রী সামিরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা সময়মতো প্রতিবেদন দাখিল না করায় বিচারক নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
গত বছরের ২১ অক্টোবর সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। অভিযোগে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সামিরা হক, চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদ (১৭)। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহের মৃত্যু ঘটার পর রমনা থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়। তবে গত বছর ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর প্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর রমনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ৬ সেপ্টেম্বর সালমানের বোন নিলুফার জামান চৌধুরী, বোনের স্বামী কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং তাদের ছেলে শাহরান শাহ তাকে দেখতে গেলে শয়নকক্ষে সালমান নিথর অবস্থায় পাওয়া যায়। একই সময় কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাতে-পায়ে তেল মালিশ করছিলেন। পাশের কক্ষে সামিরার আত্মীয় রুবি বসেছিলেন। সালমানের মা চিৎকার করে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
পথে তারা তার গলায় দড়ির দাগ এবং নীলচে দাগ লক্ষ্য করেন। প্রথমে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে, পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক জানান, সালমান অনেক আগেই মারা গেছেন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সালমানের বাবা মৃত্যুর আগে ছেলের মৃত্যু হত্যা হওয়ার সন্দেহ প্রকাশ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দরখাস্ত দেন। এতে তিনি রমনা থানার অপমৃত্যু মামলাটিকে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ এবং সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের আবেদন করেন। সালমানের বাবার মৃত্যুর পর মামা মোহাম্মদ আলমগীর বোনের পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করছেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তদের কেউ মারা গেলে প্রমাণের ভিত্তিতে তারা দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন। এছাড়া এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা পলাতক আসামিরা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী একযোগে সালমান শাহকে হত্যা করেছেন।