
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রামে টানা তিন দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। সন্ধ্যা নামলেই গ্রামগুলো ডুবে যাচ্ছে অন্ধকারে, ঘরে ঘরে জ্বলছে কুপি ও মোমবাতি। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা।
মহিষবাথান, মহিষবাথান পূর্বপাড়া, ইলশামারী, লালডোবা ও পূর্ব নলছিয়া গ্রামের বাসিন্দারা জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। মোবাইল ফোন চার্জ দিতে না পারায় জরুরি যোগাযোগেও সমস্যা হচ্ছে। দোকানপাটেও পড়েছে এর প্রভাব। ফ্রিজে সংরক্ষণ করা আইসক্রিম, দইসহ নানা পণ্য নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. বাদশা বলেন, টানা বিদ্যুৎ না থাকায় দোকানের অনেক পণ্য নষ্ট হয়ে গেছে। এতে ছোট ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
লালডোবা গ্রামের বাসিন্দা মোখলেছুর রহমান বলেন, তিন দিন ধরে পুরো এলাকা অন্ধকারে। ফ্রিজের খাবার নষ্ট হয়ে গেছে, বাচ্চারাও ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না। সন্ধ্যার পর মোমবাতি জ্বালিয়ে রাত কাটাতে হচ্ছে।
বিদ্যুৎ সংকটে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। ইলশামারী এলাকার এক পরীক্ষার্থী জানায়, সকালে পরীক্ষা থাকায় রাতেই পড়াশোনার মূল প্রস্তুতি নিতে হয়। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় ঠিকমতো পড়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে পরীক্ষার ফল খারাপ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে তাদের মধ্যে।
এ বিষয়ে স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানায়, সাম্প্রতিক ঝড়ে বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গেছে এবং মূল সঞ্চালন তার ছিঁড়ে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের কাজ চলছে এবং দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে।