
জার্মানিতে লুফথানসা এয়ারলাইন্সের কর্মীদের টানা ধর্মঘটে বিমান চলাচলে মারাত্মক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। চতুর্থ দিনের মতো কর্মবিরতি চলায় শত শত ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ, যার ফলে দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো যাত্রী।
বৃহস্পতিবার ধর্মঘটের চতুর্থ দিনে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দর পরিচালনাকারী সংস্থা ফ্রাপোর্ট জানিয়েছে, এদিন নির্ধারিত ১ হাজার ৩১৩টি ফ্লাইটের মধ্যে ৬৫৬টি বাতিল করা হয়েছে, যার বড় অংশই লুফথানসার।
এই কর্মসূচিতে লুফথানসার মূল সংস্থা ছাড়াও তাদের কার্গো বিভাগ এবং আঞ্চলিক সহযোগী প্রতিষ্ঠান সিটিলাইনের পাইলট ও কেবিন ক্রুরা অংশ নিয়েছেন। ফলে সংস্থাটির কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
ধর্মঘটের পেছনে রয়েছে বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ। বুধবার এ বিষয়ে পাইলটদের সংগঠন ভেরেইনিগুং ককপিট এবং লুফথানসা কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনা হলেও তা কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হয়। এরপরই ধর্মঘট অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় ইউনিয়ন।
লো-কস্ট এয়ারলাইন ইউরোউইংসে ধর্মঘট শুধুমাত্র বৃহস্পতিবারের জন্য নির্ধারিত থাকলেও, লুফথানসা গ্রুপের অন্যান্য এয়ারলাইনে এর প্রভাব শুক্রবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইউরোউইংসের এক মুখপাত্র জানান, ধর্মঘটের মধ্যেও তারা ৭০ শতাংশের বেশি ফ্লাইট পরিচালনা করতে সক্ষম হয়েছেন, কারণ তাদের সব বিমান জার্মানির ধর্মঘট আইনের আওতায় পড়ে না। এছাড়া তিন শতাধিক পাইলট স্বেচ্ছায় দায়িত্ব পালন করায় কার্যক্রম আংশিক সচল রাখা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।
লুফথানসার শততম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সময় এমন অচলাবস্থা সৃষ্টি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও বিব্রতকর হয়ে উঠেছে। ধর্মঘট অব্যাহত থাকলে শুক্রবার পর্যন্ত যাত্রী ভোগান্তি বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।