ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে সরাসরি আলোচনার জন্য দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির দেওয়া মুখোমুখি বৈঠকের প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে জেলেনস্কির সঙ্গে ওয়ান-টু-ওয়ান বসার কোনো যৌক্তিকতা বা অর্থ তিনি দেখছেন না।
সেন্ট পিটার্সবার্গে রাশিয়ার বার্ষিক অর্থনৈতিক ফোরামে স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার (৫ জুন) বক্তব্য দিতে গিয়ে পুতিন এই কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘বিবিসি’-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
পুতিন তাঁর বক্তব্যে বলেন, এই মুহূর্তে কোনো সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, বরং আগে দীর্ঘমেয়াদি শান্তিচুক্তির একটি শক্ত আইনি ভিত্তি তৈরি হওয়া প্রয়োজন। তাঁর মতে, এখন যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলে ইউক্রেন সেই সুযোগে কেবল নিজেদের ভেঙে পড়া সামরিক বাহিনী পুনর্গঠন এবং পশ্চিমাদের থেকে নতুন অস্ত্র পাওয়ার সুযোগ পাবে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) এক খোলা চিঠির মাধ্যমে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সরাসরি পুতিনের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানিয়েছিলেন। জেলেনস্কি লিখেছিলেন, ‘যুদ্ধ থামানোর জন্য শুধু অপেক্ষা করে থাকা হবে এক ঐতিহাসিক ভুল।’ একই সঙ্গে তিনি অবিলম্বে যুদ্ধবিরতিরও দাবি জানান।
জেলেনস্কির সেই চিঠিকে ‘রূঢ়’ এবং ‘কূটনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত’ বলে মন্তব্য করে রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমি এখন কোনো বৈঠকের প্রয়োজনীয়তা দেখছি না। প্রথমে দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা আলোচনার টেবিলে বসুক, সমাধানের খসড়া তৈরি করুক; তারপর শীর্ষ পর্যায়ে বৈঠক হতে পারে।”
পুতিন আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, রাশিয়া তাদের ঘোষিত ভূরাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জন না করা পর্যন্ত সামরিক অভিযান কোনোভাবেই বন্ধ করবে না। মস্কোর মূল দাবি—ইউক্রেনকে দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চল থেকে নিজেদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নিতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই ন্যাটো (NATO) সামরিক জোটে যোগদানের প্রচেষ্টা চালানো যাবে না।
অন্যদিকে পুতিনের এমন অনমনীয় প্রতিক্রিয়াকে অত্যন্ত হতাশাজনক বলে আখ্যা দিয়েছেন ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি পাল্টা বিবৃতিতে বলেন, “রাশিয়া আবারও শান্তির চেয়ে যুদ্ধকেই বেছে নিচ্ছে। পুতিন আসলে এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষ করতে চান না।”
কূটনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যেই যুদ্ধক্ষেত্রে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা আরও তীব্র হয়েছে। ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা আজভ সাগর ও রুশ-নিয়ন্ত্রিত উপকূলীয় এলাকায় রাশিয়ার পাঁচটি সামরিক ও কার্গো জাহাজে সফল হামলা চালিয়েছে। কিয়েভের দাবি, এই জাহাজগুলো ইউক্রেনীয় শস্য ও সামরিক সরঞ্জাম অবৈধভাবে পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
অন্যদিকে ইউক্রেনের আঞ্চলিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটির বিভিন্ন বেসামরিক অঞ্চলে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১৩ জন ইউক্রেনীয় নাগরিক নিহত এবং আরও ৭০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
সূত্র: বিবিসি