
চরিত্রের প্রয়োজনে সাহসী দৃশ্যে অভিনয় করতে আপত্তি নেই অভিনেত্রী রাধিকা আপ্তের। তবে শুধুই পর্দায় চমক তৈরি বা দৃশ্যকে আকর্ষণীয় করে তুলতে অপ্রয়োজনীয় নগ্নতা কিংবা ঘনিষ্ঠ দৃশ্য রাখার পক্ষপাতী নন তিনি। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে এমন কিছু অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন বলে সম্প্রতি জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
‘পার্চড’, ‘হান্টার’, ‘ম্যাডলি’ ও ‘লাস্ট স্টোরিজ’-এর মতো সিনেমায় সাহসী চরিত্রে অভিনয় করে আলোচনায় আসেন রাধিকা। তাঁর বক্তব্য, গল্প বা চরিত্রের প্রয়োজন থাকলে কোনো দৃশ্যে নগ্নতা থাকলেও সমস্যা নেই। কিন্তু দৃশ্যটির বাস্তব প্রয়োজনীয়তা না থাকলে তিনি তাতে সম্মতি দেন না।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রাধিকা জানান, অভিনয়জীবনের শুরুর দিকে টানা চার-পাঁচটি সিনেমায় নগ্ন দৃশ্যে অভিনয় করেছিলেন। এর পর ইন্ডাস্ট্রির কিছু মানুষের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়, ভবিষ্যতেও এ ধরনের দৃশ্যে তিনি সহজেই রাজি হয়ে যাবেন।
রাধিকার ভাষ্য অনুযায়ী, তখন অনেক সময় তাঁকেই স্পষ্ট করে বলতে হয়েছে যে কোনো দৃশ্য করার আগে সেটির প্রয়োজনীয়তা জানতে চান তিনি। তাঁর প্রশ্ন ছিল—কেন এমন দৃশ্য রাখা হচ্ছে এবং গল্পে এর ভূমিকা কী?
অভিনেত্রী জানান, এমন প্রশ্নের জবাবে কখনো কখনো তাঁকে শুধু ‘একটু করে দাও’ ধরনের কথা বলা হয়েছে। এক পরিচালক তো চিত্রনাট্যে না থাকা প্রায় ১৫ সেকেন্ডের একটি চুম্বনের দৃশ্য ইম্প্রোভাইজেশন হিসেবে করার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। এমন প্রস্তাবে বিস্মিত হয়ে রাধিকা পাল্টা জানতে চেয়েছিলেন, তিনি ঠিক কী করতে বলছেন।
আরেকটি ঘটনার স্মৃতিও শেয়ার করেন অভিনেত্রী। শুটিংয়ের সময় তাঁকে শার্টের বোতাম খোলা অবস্থায় একটি অ্যাকশন দৃশ্যের শট দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এতে রাজি হননি তিনি। কারণ, ওই দৃশ্যে দৌড়ঝাঁপ করতে হতো এবং বোতাম খোলা থাকলে পোশাকের ভেতরের অংশ অনিচ্ছাকৃতভাবে দৃশ্যমান হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল।
২০১৬ সালের ‘পার্চড’ সিনেমার একটি নগ্ন দৃশ্য ভাইরাল হওয়ার ঘটনাও সাক্ষাৎকারে উঠে আসে। রাধিকার আক্ষেপ, সিনেমাটির মূল বিষয়বস্তু ও গল্প নিয়ে আলোচনার পরিবর্তে ওই দৃশ্যটিই বেশি গুরুত্ব পেয়েছিল।
রাধিকার মতে, পর্দায় বাড়তি চমক তৈরির প্রবণতার কারণে অভিনেত্রীদের অনেক সময় অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। নিজের ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সেই বাস্তবতার কথাই সামনে আনলেন তিনি।
সূত্র: এনডিটিভি