
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এক নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অসুস্থতার অজুহাতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কামরুল ইসলাম। তবে প্রসিকিউশনের কঠোর অনড় অবস্থানের মুখে শেষ পর্যন্ত দুই ঘণ্টা পর তাকে আদালতে হাজির করতে বাধ্য হয় কারা কর্তৃপক্ষ।
অসুস্থতার অজুহাত ও প্রসিকিউশনের কড়া নির্দেশ
বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের এই জ্যেষ্ঠ নেতা বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে মামলার শুনানির জন্য তাকে ট্রাইব্যুনালে আনার প্রক্রিয়া শুরু হলে তিনি আসতে অস্বীকৃতি জানান। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার ও চিফ প্রসিকিউটরকে অবহিত করে কারা কর্তৃপক্ষ।
কারা কর্তৃপক্ষের দেওয়া যুক্তি ও কামরুলের অনীহাকে গ্রহণযোগ্য মনে করেনি প্রসিকিউশন। চিফ প্রসিকিউটরের দপ্তর থেকে যেকোনো উপায়ে হাসপাতাল থেকে তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয়। এই কড়া বার্তার প্রায় ঘণ্টা দুয়েক পর তাকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়।
অভিযোগ গঠন ও অব্যাহতির বিতর্ক
ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল আজ এই মামলায় অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশ দেবেন। একই মামলায় ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননও অভিযুক্ত।
গত ১১ মার্চ আসামিপক্ষের আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী কামরুল ও মেননের অব্যাহতি (ডিসচার্জ) চেয়ে আবেদন করেন। তিনি আদালতে দাবি করেন, "তার মক্কেলদের বিরুদ্ধে অভিযোগের পক্ষে প্রসিকিউশন কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেনি। কোনো হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণও দেখাতে পারেনি।"
অন্যদিকে, গত ২ মার্চ প্রসিকিউশন পক্ষ তাদের শুনানি শেষ করে অভিযোগ গঠনের জোরালো আবেদন জানায়। চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম শুনানিতে বলেন, "শেখ হাসিনার সরকারকে টিকিয়ে রাখতে বিভিন্ন উসকানি দিয়েছেন কামরুল ও মেনন। তারা আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় জোটের শীর্ষ পদে থেকে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর মারণাস্ত্র ব্যবহার এবং কারফিউ জারির প্ররোচনা দেন। তাদের ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়।"
মামলার প্রেক্ষাপট
রাজধানীর বাড্ডা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় অন্তত ২৩ জনকে হত্যার ঘটনায় কামরুল ইসলাম ও রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। গত ৩ ফেব্রুয়ারি প্রসিকিউশনের দাখিলকৃত আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল। আজ তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশের মধ্য দিয়ে মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় নতুন ধাপ শুরু হতে যাচ্ছে।