
হবিগঞ্জের মাধবপুরে জ্বালানি তেলবাহী ট্রেন দুর্ঘটনার পর একদিন পার হলেও এখনো স্বাভাবিক হয়নি সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ, ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) দুপুর পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট ও চট্টগ্রাম-সিলেট রুটে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। লাইনচ্যুত বগিগুলো উদ্ধারে কাজ চলছে। ছড়িয়ে পড়া তেল লুটপাট ঠেকাতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
এর আগে বুধবার রাত ৯টার দিকে সিলেটগামী তেলবাহী একটি ট্রেন নোয়াপাড়া এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ বিকট শব্দে লাইনচ্যুত হয়। এতে ট্রেনটির ৬টি বগি লাইন থেকে ছিটকে পড়ে এবং বগিগুলোতে থাকা বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল আশপাশের সড়ক, কৃষিজমি ও খালে ছড়িয়ে যায়।
দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার কাজে সেনাবাহিনী, বিজিবি-৫৫ ও পুলিশ যৌথভাবে কাজ শুরু করে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
নোয়াপাড়া রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. মনির আহমেদ জানান, এই দুর্ঘটনার কারণে ঢাকাগামী উপবন এক্সপ্রেস, চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস এবং সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের চলাচল বাতিল করা হয়েছে। যাত্রীদের টিকিটের অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হতে আরও ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।
অন্যদিকে, ছড়িয়ে পড়া জ্বালানি সংগ্রহের সময় বিজিবি অভিযান চালিয়ে প্রায় ১ হাজার লিটার তেল জব্দ করেছে। লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানজিলুর রহমান বলেন, ‘ইতোমধ্যে বিজিবি বিপুল পরিমাণ তেল নিজস্ব জারিকেন ও ড্রামে করে উদ্ধার করে সংরক্ষণ করেছে। তেল যাতে কেউ নিয়ে যেতে না পারে, সে ব্যাপারে আমরা তৎপর আছি।’
দীর্ঘ সময় ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় সিলেটগামী যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।