
উত্তরের নবীন বিদ্যাপীঠ ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পেলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. ইস্রাফীল।
বুধবার (৬ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে তাকে এই উচ্চপদে স্থলাভিষিক্ত করা হয়। গুণী এই নাট্যব্যক্তিত্বের নিয়োগের খবরে ঠাকুরগাঁও ও তার জন্মভূমি পঞ্চগড়ে এখন উৎসবের আমেজ।
নিয়োগের শর্তাবলী ও মেয়াদ
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সহকারী সচিব মো. সুলতান আহমেদ স্বাক্ষরিত ওই আদেশে জানানো হয়েছে, ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৩’-এর ১০(১) ধারা মোতাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের সম্মতিক্রমে তাকে আগামী চার বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ড. ইস্রাফীল যোগদানের দিন থেকে পরবর্তী চার বছর অথবা অবসর গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত (যেটি আগে আসবে) এই দায়িত্ব পালন করবেন। উপাচার্য হিসেবে তিনি বর্তমান পদের সমমানের বেতন-ভাতা ও বিধি অনুযায়ী অন্যান্য সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী হিসেবে তাকে সবসময় ক্যাম্পাস চত্বরে অবস্থান করতে হবে। তবে চ্যান্সেলর প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো সময় এই নিয়োগ বাতিল করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করেন।
বর্ণাঢ্য কর্মজীবন ও শিক্ষা
অধ্যাপক ড. মো. ইস্রাফীল নাট্যকলা ও শিক্ষা গবেষণায় এক আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত নাম। তার শিক্ষাজীবনের ভিত্তি বেশ মজবুত; তিনি ১৯৯১ সালে ভারতের বিখ্যাত ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামা (এনএসডি) থেকে স্নাতক এবং ১৯৯৯ সালে কলকাতার রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলাদেশের পথনাটক বিষয়ের ওপর পিএইচডি লাভ করেন।
দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি ২০০৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব সামলেছেন। এছাড়া রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ প্রায় ১৬টি দেশে আন্তর্জাতিক কর্মশালা ও গবেষণায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন তিনি।
শেকড়ের টানে ঠাকুরগাঁও
অধ্যাপক ইস্রাফীলের পৈতৃক নিবাস পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলায় হলেও তার শৈশব ও কৈশোরের বড় একটি সময় কেটেছে ঠাকুরগাঁও শহরেই। তার বাবা ছিলেন একজন জনপ্রিয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান। পদ্ধতিগত অভিনয় এবং দেশীয় নাট্যরীতিকে নৃবৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিতে ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে তার বিশেষ খ্যাতি রয়েছে।
অত্র অঞ্চলের সাধারণ মানুষ ও শিক্ষানুরাগীদের বিশ্বাস, নিজ মাটির সন্তান এবং একজন আন্তর্জাতিক মানের গবেষককে উপাচার্য হিসেবে পাওয়ায় নবগঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি দ্রুত পূর্ণাঙ্গ ও মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপ নেবে।