
ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে দুর্দান্ত বোলিংয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার পথে বাংলাদেশ। স্বাগতিকদের মাটিতে দুই সেশন শেষে ৮ উইকেট তুলে নিয়ে বড় চাপে ফেলেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
বৃহস্পতিবার প্রথম টেস্টের দুই সেশন শেষে ৪৮ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ১৮৩ রান। স্টিভেন স্মিথ ৬৭ এবং নাথান লায়ন শূন্য রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে হাসান মাহমুদ ৪টি, তাসকিন আহমেদ ২টি এবং এবাদত হোসেন ২টি উইকেট নিয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের শুরু থেকেই বাংলাদেশের পেসাররা স্বাগতিক ব্যাটারদের চাপে রাখেন। নতুন বলে হাসান মাহমুদ ও তাসকিন আহমেদ আক্রমণ শুরু করেন। এরপর গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বল হাতে কার্যকর ভূমিকা রাখেন এবাদত হোসেনও।
হাসান মাহমুদের বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনার ট্রাভিস হেড ও জ্যাক ওয়েদারল্যান্ড সাজঘরে ফেরেন। ১২তম ওভারে ২৩ রান করা ওয়েদারল্যান্ডকে উইকেটের পেছনে লিটন দাসের হাতে ক্যাচে পরিণত করেন হাসান। এরপর দলীয় ৫২ রানে ট্রাভিস হেডকে সরাসরি বোল্ড করে নিজের দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন এই পেসার।
এরপর মার্নাস লাবুশেনকে ফেরান এবাদত হোসেন। ২০ বল খেলে মাত্র ১ রান করা লাবুশেন নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান। ফলে ৬১ রানেই অস্ট্রেলিয়া হারায় শীর্ষ তিন ব্যাটারকে।
চতুর্থ উইকেটে স্টিভেন স্মিথ ও ক্যামেরন গ্রিন প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তবে দলীয় ৭৪ রানে তাসকিন আহমেদের বলে মুশফিকুর রহিমের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন গ্রিন। তিনি করেন ১৩ রান।
এরপর স্মিথ ও অ্যালেক্স ক্যারে মিলে পঞ্চম উইকেটে ৫৫ রানের জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়াকে কিছুটা স্বস্তি দেন। লাঞ্চের পর এই জুটিই বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করছিল। শেষ পর্যন্ত দলীয় ১২৯ রানে ক্যারেকে বোল্ড করে জুটি ভাঙেন এবাদত। ৪৩ বলে ১৯ রান করেন ক্যারে।
ক্যারেকে ফেরানোর পরও অস্ট্রেলিয়াকে স্বস্তিতে থাকতে দেননি তাসকিন আহমেদ। ষষ্ঠ উইকেটে স্মিথের সঙ্গে ২৩ রানের জুটি গড়া বিউ ওয়েবস্টারকে সরাসরি বোল্ড করেন তিনি। ১৫২ রানে অস্ট্রেলিয়ার ষষ্ঠ ব্যাটার হিসেবে বিদায় নেন ওয়েবস্টার।
তবে বাংলাদেশের জন্য আক্ষেপ হয়ে আছে স্টিভেন স্মিথের ক্যাচটি। তানজিদ হাসান তামিম সেই সুযোগটি কাজে লাগাতে পারলে অস্ট্রেলিয়া আরও বড় বিপদে পড়তে পারত। সেই স্মিথই এখন ৬৭ রানে অপরাজিত থেকে দলকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
এর আগে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। স্বাগতিকদের লক্ষ্য ছিল বড় সংগ্রহ দাঁড় করিয়ে শুরুতেই বাংলাদেশকে চাপে ফেলা। কিন্তু হাসান মাহমুদ, এবাদত হোসেন ও তাসকিন আহমেদের পেস আক্রমণে সেই পরিকল্পনা শুরুতেই বাধাগ্রস্ত হয়।
ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামের ড্রপ-ইন পিচে বাংলাদেশের পেসাররা কতটা কার্যকর হবেন, ম্যাচ শুরুর আগে তা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। বিশেষ করে তৃতীয় পেসার হিসেবে খালেদ আহমেদ নাকি এবাদত হোসেন খেলবেন, তা নিয়েও ছিল আলোচনা। শেষ পর্যন্ত একাদশে সুযোগ পাওয়া এবাদত বল হাতে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন।
প্রথম সেশনের শেষ দিকে অস্ট্রেলিয়ার চতুর্থ উইকেট পতনের পর লাঞ্চ ঘোষণা করেন আম্পায়াররা। ২২তম ওভারের শেষ বলে ওই উইকেটটি আসে। নিজেদের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে প্রথম সেশনেই চার উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশ তখন স্পষ্টতই এগিয়ে ছিল।
লাঞ্চের পর অবশ্য স্মিথ ও ক্যারের জুটি অস্ট্রেলিয়াকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করে। তাদের ৫৫ রানের জুটি ভাঙার পর আবারও স্বাগতিকদের ওপর চাপ বাড়ায় বাংলাদেশ। এবাদত ও তাসকিনের পর পেস আক্রমণে ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন বাংলাদেশের বোলাররা।
দুই সেশন শেষে তাই স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার সামনে শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে নিজেদের অবস্থান জানান দিয়েছে বাংলাদেশ। ৮ উইকেট হারানো অস্ট্রেলিয়া এখন নির্ভর করছে অপরাজিত স্টিভেন স্মিথ ও নাথান লায়নের ওপর।