
ঢাকা-১১ আসনের ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড বা কৃষক কার্ডের প্রতিশ্রুতি বিএনপির ‘ধোঁকাবাজি’ মাত্র, মাঠ পর্যায়ে মানুষ এসব প্রতিশ্রুতিতে সাড়া দিচ্ছে না।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাজধানীর শাহজাদপুর বাঁশতলা, নূরের চালা বাজার, নবধারা সড়ক ও একতা সড়ক এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “বিএনপির ফ্যামিলি কার্ড বা কৃষক কার্ডের উদ্যোগ ধোঁকাবাজি ও প্রতারণা। এসব ভোট কেনার কৌশল মাত্র। মাঠপর্যায়ে মানুষ এসব প্রতিশ্রুতিতে সাড়া দিচ্ছে না। কারণ অতীতেও এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, যা বাস্তবায়ন হয়নি।”
নাহিদ ইসলাম আরও জানান, “এবারের নির্বাচন নতুন বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য নির্ধারণের নির্বাচন। একই দিনে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। মানুষ যেন ভয়ভীতি ছাড়াই ভোট দিতে পারে, সে বিষয়ে আমরা জোর দিচ্ছি। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, ঢাকা-১১ সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পরিকল্পিতভাবে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, “নির্বাচনি আচরণবিধি মানা হচ্ছে না। বিভিন্ন স্থানে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে পোস্টার টাঙানো হচ্ছে। অথচ আমরা নিয়ম মেনে ব্যানার টাঙাতে গেলে বাধা দেওয়া হচ্ছে, ব্যানার ও ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। এটি স্পষ্টভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘনের উদাহরণ।”
নাহিদ ইসলাম বলেন, “দীর্ঘ ১৬ বছর পর দেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মানুষ যেন নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে পারে, সে লক্ষ্যে আমরা মাঠে কাজ করছি।”
তিনি আরও বলেন, “শুধু প্রতিশ্রুতি দিলেই হবে না, বাস্তবায়নের রূপরেখা থাকতে হবে। সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে যেসব কথা বলা হচ্ছে, তার অনেক প্রকল্প আগেই দেশে চালু রয়েছে। নতুন করে কার্ড দিয়ে অর্থ দেওয়ার প্রলোভনের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।”
ঢাকা-১১ আসনের স্থানীয় সমস্যা উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, “এলাকায় পানি ও গ্যাস সংকট প্রকট। সকালে গ্যাস চলে গেলে সারাদিন আসে না। পানির সমস্যার বিষয়ে ওয়াসায় আবেদন করা হয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে আমরা কার্যকর উদ্যোগ নেব।”
মাদক নির্মূলের অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, “প্রকাশ্যে মাদকের কারবার চলছে। তরুণ সমাজ মাদকের কবলে পড়ছে। এ কাজে প্রশাসন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা জড়িত। ঢাকা-১১ আসন থেকে মাদক নির্মূলে আমরা কঠোর অবস্থান নেব।”
চাঁদাবাজি ও ভূমি দখল প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, “৫ আগস্টের পর এসব সমস্যা বেড়েছে। আগে আওয়ামী লীগ আমলে যেমন দখল হয়েছে, এখন প্রতিদ্বন্দ্বী দলের নেতাকর্মীরাও একই কাজ করছে। এসবের বিরুদ্ধেও আমাদের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রতিপক্ষ কী করছে, তার চেয়ে আমরা নিজেদের অ্যাজেন্ডা নিয়ে বেশি কথা বলছি। দুর্নীতি, বৈষম্য ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এবং সংস্কারের পক্ষে আমাদের অবস্থান তুলে ধরছি। শাপলা কলি মার্কায় ভোট চেয়ে আমরা মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া পাচ্ছি। আশা করি, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে শাপলা কলির বিজয় হবে।”
নির্বাচনি প্রচারণা ও গণসংযোগে নাহিদ ইসলামের সঙ্গে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ দশ দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা হেঁটে হেঁটে ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের সমস্যা ও দাবি-দাওয়ার কথা শোনেন।