
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু জানিয়েছেন, যথাসময়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু হবে। পাশাপাশি আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করা হবে।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে লালমনিরহাটে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “যথাসময়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন। আমাদের থেমে থাকা উচিত নয়—পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেই ছাড়ব।”
দুদু আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথম দিন থেকেই বিষয়টি মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে আলোচনা করছেন। আমি বিষয়টি নিশ্চিত করেছি। আমাদের একটু অপেক্ষা করতে হবে। দিন পাল্টে গেছে, আগের বাংলাদেশ আর নেই। প্রধানমন্ত্রী সবাইকে নিয়ে দেশের উন্নয়নে কাজ করতে চান। আমাদেরও নিজ নিজ অবস্থান থেকে সহযোগিতা করতে হবে।”
মন্ত্রী জানান, শুকনা মৌসুমে তিনটি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে দেশে ব্যাপক খাল খনন কার্যক্রম শুরু হবে। পাশাপাশি চলতি বছরে দেশব্যাপী ৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে দুলু বলেন, “প্রাথমিকভাবে দেশের ৮টি উপজেলায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই কর্মসূচি চালু হবে। পরে দেশের সব প্রকৃত হতদরিদ্র পরিবারকে ধাপে ধাপে অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যাতে সরকারি সহায়তা সরাসরি এবং স্বচ্ছভাবে মানুষের কাছে পৌঁছায়। প্রকৃত উপকারভোগীদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।”
তিনি আরও আশ্বস্ত করেন, “রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। সাধারণ মানুষের ইফতার, সেহরি ও তারাবীহ যেন কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগ কাজ করছে। পাশাপাশি বাড়ি ফেরা মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।”
ভূমিকম্প বিষয়ে তিনি জানান, “বাংলাদেশের দুই স্থানে ভূমিকম্প হয়েছে। বিষয়টি খোঁজখবর নেওয়া আমার এবং মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী নিজে আমাকে ফোন করে ঘটনা সম্পর্কে অবহিত করেছেন। তিনি সব সময় দেশের প্রতিটি ঘটনার খোঁজখবর রাখেন।”
নির্বাচনের পর নিজ নির্বাচনী এলাকায় প্রথম সফরে এসে মন্ত্রী লালমনিরহাটের তিস্তা, মোস্তাফি ও মহেন্দ্রনগরসহ বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
এর আগে দুপুরে রংপুর নগরীর সাতমাথা জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন দুর্যোগমন্ত্রী। নামাজ শেষে তিনি মুসল্লিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু।