
পাবনার ঈশ্বরদীতে দাদি-নাতনিকে নৃশংস হত্যার ঘটনায় রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় শরিফুল ইসলাম শরীফ (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি নিহত কিশোরী জামিলা আক্তারের চাচা।
রোববার (১ মার্চ) গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিবির ওসি রাশিদুল ইসলাম।

ডিবি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, যৌন হয়রানির চেষ্টা ব্যর্থ হওয়া এবং তাতে বাধা পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে শরীফ সুফিয়া খাতুন (৬৫) ও তার নাতনি জামিলা আক্তারকে (১৬) হত্যা করেন। গ্রেপ্তার শরীফ দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর উত্তরপাড়া গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে। পেশায় তিনি ট্রাকচালক। নিহতরাও একই গ্রামের বাসিন্দা। জামিলা স্থানীয় একটি মাদ্রাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
এ ঘটনায় জামিলার বোন বাদী হয়ে শনিবার ঈশ্বরদী থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পারিবারিক সূত্র জানায়, জামিলার বাবা জয়নাল খাঁ কাজের কারণে প্রায়ই ঢাকার সাভারে বড় মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। জামিলা গ্রামের বাড়িতে দাদি সুফিয়া খাতুনের সঙ্গে বসবাস করত। ঘটনার সময় তার বাবা বাড়িতে ছিলেন না।

ডিবির ওসি রাশিদুল ইসলাম জানান, জিজ্ঞাসাবাদে শরীফ হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে বাজারে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তিনি জামিলাদের বাড়িতে যান। দাদি বাড়িতে না থাকায় সুযোগ নিয়ে জামিলাকে যৌন হয়রানির চেষ্টা করেন। এতে জামিলা প্রতিবাদ করে তাকে চড় মারলে অপমানিত হয়ে তিনি সেদিন চলে যান।
এরপর শুক্রবার গভীর রাতে আবার ওই বাড়িতে যান শরীফ। আগের ঘটনার জন্য ক্ষমা চাইলে সুফিয়া খাতুন চিৎকার শুরু করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পাশে থাকা কাঠের বাটাম দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। সুফিয়া মাটিতে পড়ে গেলে জামিলা চিৎকার দেয়। তখন নির্মাণকাজে ব্যবহৃত একটি যন্ত্র দিয়ে তার মাথা ও কপালে আঘাত করা হয়। পরে তাকে টেনে বাড়ির পাশের সরিষাক্ষেতে নিয়ে যাওয়া হয়। পথে পুকুরপাড়ে ধর্ষণের পর গলা টিপে হত্যা করে মরদেহ ফেলে পালিয়ে যান শরীফ।
শনিবার সকালে স্থানীয়রা বাড়ির উঠানে সুফিয়া খাতুনের রক্তাক্ত মরদেহ এবং পাশের সরিষাক্ষেতে জামিলার লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। ঈশ্বরদী থানা ও ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
ঘটনার পর ঈশ্বরদী থানার ওসি মমিনুজ্জামান এবং ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার প্রাথমিকভাবে কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন।
ডিবির ওসি রাশিদুল ইসলাম জানান, ঘটনার তদন্তে বিশেষ টিম গঠন করা হয়। স্থানীয় তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহভাজন হিসেবে শনিবার রাতেই শরীফুল ইসলামকে আটক করা হয়। ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি অপরাধ স্বীকার করেন এবং পুরো ঘটনার বর্ণনা দেন।