.jpg)
আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিবন্ধন অধিদপ্তরে রেজিস্ট্রার ও সাব-রেজিস্ট্রারদের বদলি নিয়ে শতকোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। দুদকের অভিযোগে বলা হয়, আসিফ নজরুলের দূর্নীতির নেপথ্যে রয়েছেন মাইকেল ও রমজান।
অভিযোগকারী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রাফসান আল আলভি দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের গত আট মাসে আইন মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বদলিকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে রেজিস্ট্রার ও সাব-রেজিস্ট্রারদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত নিবন্ধন অধিদপ্তরের ৪০৩ জন কর্মকর্তার বদলি করা হয়। এর মধ্যে অন্তত ২৮২ জন কর্মকর্তার সঙ্গে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগকারী দাবি করেন, ঘুষের বিনিময়ে বদলির আদেশ দেওয়া হলেও নির্ধারিত অর্থ পুরোপুরি পরিশোধ না করলে অনেক ক্ষেত্রে সেই বদলির আদেশ স্থগিত বা পুনরায় বদলির ঘটনা ঘটেছে।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, “রমজান ও মাইকেল সিন্ডিকেট” নামে পরিচিত একটি চক্র বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ওই আত্মসাৎ করা অর্থ সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগে সিন্ডিকেটের অন্যান্য সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ রেজিস্ট্রেশন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম মহাসচিব গোলাম মোস্তফা, যুগ্ম মহাসচিব জাহাঙ্গীর আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন বাবর মিরোজ এবং মো. আবদুল বাতেনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারী দাবি করেন, তাদের মাধ্যমেই বদলি বাণিজ্যের বড় অংশ পরিচালিত হয়েছে।
সিন্ডিকেট এর মাধ্যমে কোটি টাকা উত্তোলনের বিষয়ে জানতে মোঃ আবদুল বাতেন এর কাছে ঢাকাওয়াচ- এর পক্ষ থেকে ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, রমজান বর্তমানে মুন্সিগঞ্জ সদরের জেলা রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত আছেন। তবে তিনি সি-গ্রেড অফিসের কর্মকর্তা হয়েও প্রভাব খাটিয়ে এ-গ্রেড জেলায় দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা যায়। একইভাবে ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করে মুন্সিগঞ্জ সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিস থেকে ঢাকার খিলগাঁওয়ে পদায়ন নেওয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে আনা হয়েছে।
অভিযোগকারী দাবি করেন, পুরো বদলি প্রক্রিয়াকে একটি বাণিজ্যিক নেটওয়ার্কে পরিণত করা হয়েছিল। যোগ্যতা ও প্রশাসনিক প্রয়োজনের পরিবর্তে অর্থ লেনদেনই ছিল পদায়নের প্রধান শর্ত। এতে নিবন্ধন অধিদপ্তরের স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে সি গ্রেডের কর্মকর্তাকে এ গ্রেড এর অফিসে পদায়ন করা হয়েছে। যেখানে তাদের সি গ্রেডের অফিসে পদায়ন হওয়ার কথা ছিলো। আবার সি গ্রেডের অফিসে পদায়ন না করে এ গ্রেড এর অফিসএ পদায়ন করা হয়। এদিকে তাদের ঘুসের পরিমান যত বেশি, তাদের পদায়নও ভালো জায়গায় হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ আক্তারুল ইসলাম জানান, দুদকে অভিযোগ জমা হলে তা দুদকের নিজস্ব পক্রিয়ার মাধ্যমে এগিয়ে যাবে। তদন্তে প্রমানিত হলে আইনের আওতানুযায়ী মামলা হয় বলে জানান দুদকের এই কর্মকর্তা। সাব রেজিস্ট্রার বদলিতে শতকোটি টাকা ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগে একটি অভিযোগ দুদকে জমা হয়েছে বলে তিনি জানান।
তবে বদলি বানিজ্যের অভিযোগের বিষয়ে মাইকেল ও রমজান সিন্ডিকেট এর মাইকেল এর কাছে জানতে ঢাকাওয়াচ এর পক্ষ থেকে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।