
জুলাই যোদ্ধা ও বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান এবং উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে নতুন ঋণ প্রকল্প চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘উদ্যোগ’ নামে প্রস্তাবিত এ প্রকল্পের আওতায় জুলাই যোদ্ধা ও বেকার যুবকদের সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
৫০০–১,০০০ কোটি টাকার তহবিল, অগ্রাধিকার পাবেন গ্রামের শিক্ষিত বেকার ও জুলাই যোদ্ধারা
মঙ্গলবার বিকেলে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৈঠক শেষে এবিবি চেয়ারম্যান মাশরুর আরেফিন জানান, ‘উদ্যোগ’ প্রকল্পের তহবিলের আকার হতে পারে ৫০০ থেকে ১,০০০ কোটি টাকা। এর সঙ্গে বেকার যুবকদের জন্য চালু থাকা অন্যান্য স্কিমও যুক্ত করা হবে।
তিনি বলেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে প্রকল্পটি চালু হতে পারে।এছাড়াও ৫-৬% সুদে ঋণ পাবে জুলাই যোদ্ধারা।
নতুন এ ঋণ কর্মসূচিতে গ্রামের শিক্ষিত বেকার যুবকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তাদের ব্যবসা কিংবা আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করতেই সহজ শর্তে অর্থায়নের ব্যবস্থা করা হবে। তবে বেকার জুলাই যোদ্ধাদের কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই মূলত এ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
মাসরুর আরেফিন বলেন, 'শুধু ঋণ দেওয়াই নয়, উদ্যোক্তাদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে অনুদানের ব্যবস্থাও থাকছে। ঋণের কিস্তি সময়মতো পরিশোধ ও ব্যবসার পারফরম্যান্স বিবেচনায় ব্যাংকগুলো তাদের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর তহবিল থেকে সমপরিমাণ অর্থ অনুদান হিসেবে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। অর্থাৎ, কোনো উদ্যোক্তা ১০ লাখ টাকা ঋণ পেলে পরবর্তী সময়ে যোগ্যতার ভিত্তিতে আরও ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।'
জানা গেছে, এই ঋণের ক্ষেত্রে কোনো জামানত নেওয়া হবে না। ফলে সম্পদ বা জমি বন্ধক রাখার সক্ষমতা না থাকলেও যোগ্য তরুণদের ব্যবসা শুরু করার সুযোগ তৈরি হবে।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, উদ্যোক্তা নির্বাচনে উপজেলা পর্যায়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক বা নির্ধারিত কমিটির মাধ্যমে প্রকৃত উদ্যোক্তা বাছাই করা হবে। এর মাধ্যমে তদবির বা প্রভাব খাটিয়ে অযোগ্য ব্যক্তির ঋণ পাওয়ার সুযোগ কমানোর চেষ্টা করা হবে।
এবিবির চেয়ারম্যান বলেন, 'দেশের ৫০০টির বেশি উপজেলায় ব্যাংকগুলো নিজেদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে নিয়ে সম্ভাব্য উদ্যোক্তা চিহ্নিত ও যাচাই করবে। উদ্যোক্তা নির্বাচনের ক্ষেত্রে ব্যবসার সম্ভাবনা, দক্ষতা ও প্রকৃত উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।'
তিনি জানান, এই তহবিলের আওতায় শুধু নির্দিষ্ট কোনো ব্যবসা নয়, উৎপাদন ও বাণিজ্য—দুই ধরনের উদ্যোগই আসতে পারে। এর মধ্যে মৎস্য চাষ, প্রাণিসম্পদ, খাদ্য উৎপাদন, হস্তশিল্প, শতরঞ্জি তৈরি এবং অন্যান্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।