
দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে আবারও নতুন উদ্যমে চালু হচ্ছে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি। সরকারের এই উদ্যোগের আওতায় প্রায় ২০ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩২ লাখ শিক্ষার্থীকে নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হবে। খাবারের তালিকায় থাকছে বন রুটি, সেদ্ধ ডিম, পাস্তুরিত দুধ, ফর্টিফায়েড বিস্কুট ও মৌসুমি ফল।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি বছর থেকেই কর্মসূচিতে গতি আনা হবে। একই সঙ্গে খাবারের মান নিয়ে কোনো ধরনের গাফিলতি বা অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শনিবার (১৬ মে) মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রকল্পভুক্ত ১৫০টি উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের কাছে এ বিষয়ে বিশেষ প্রশাসনিক নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে খাদ্যসামগ্রী গ্রহণের আগে প্রধান শিক্ষকদের অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সেগুলোর মান যাচাই করতে হবে। কোনোভাবেই নিম্নমানের, পচা বা ত্রুটিপূর্ণ খাবার গ্রহণ কিংবা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা যাবে না।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বনরুটি অবশ্যই তাজা, নরম ও সঠিকভাবে প্যাকেটজাত হতে হবে। প্যাকেট ছেঁড়া, দুর্গন্ধযুক্ত বা ফাংগাসযুক্ত হলে তা গ্রহণ করা যাবে না। একই সঙ্গে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং ১২০ গ্রাম ওজন উল্লেখ থাকতে হবে।
ডিমের ক্ষেত্রে ফাটা, পিচ্ছিল বা দুর্গন্ধযুক্ত হওয়া চলবে না। কলা হতে হবে দাগহীন ও পোকামুক্ত। বেশি পাকা, পচা বা ছোট আকারের কলাও গ্রহণ করা যাবে না। এছাড়া ইউএইচটি মিল্ক ও ফর্টিফায়েড বিস্কুটের প্যাকেজিং এবং মেয়াদও যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, দেশের ৬২ জেলার দেড় শতাধিক উপজেলার দরিদ্রপীড়িত এলাকার ১৯ হাজার ৪১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এই প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। এতে প্রায় ৩১ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষার্থী উপকৃত হবে।
বাংলাদেশে প্রথম স্কুল ফিডিং কার্যক্রম চালু হয়েছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া-এর উদ্যোগে ‘খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা’ কর্মসূচির মাধ্যমে। পরে ২০০১ সালে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি-এর সহায়তায় এটি আরও বিস্তৃত হয়।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে নিম্নমানের খাবার সরবরাহ নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে। কয়েকটি স্কুলে খাবার খেয়ে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনাও সামনে আসে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, খাবারে বাসি গন্ধ, শক্ত রুটি ও পেটব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছিল। এরপরই সরকার নতুনভাবে কঠোর নজরদারির সিদ্ধান্ত নেয়।