
বিয়ের জন্য চাপ দেওয়াকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে গার্মেন্টসকর্মী সাদিয়া আক্তারকে (২৩) শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
সংস্থাটি জানিয়েছে, ঘটনার ১০ দিনের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে তদন্তে প্রাপ্ত মূল আসামি আব্দুর রাজ্জাক ওরফে আরিয়ানকে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জে পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ।
পিবিআই জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্লেষণ, সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে ২১ জুলাই ঢাকার কেরানীগঞ্জের জিনজিরা এলাকা থেকে আব্দুর রাজ্জাককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর কাছ থেকে নিহতের মোবাইল ফোন, হত্যার সময় ব্যবহৃত ক্যাপ এবং তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিক্রি করা স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে পিবিআই জানতে পারে, রাজ্জাক নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে সাদিয়ার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে সাদিয়া আগের স্বামীকে তালাক দিয়ে রাজ্জাকের সঙ্গে সিদ্ধিরগঞ্জে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে বসবাস শুরু করেন। ঘটনার দিন সাদিয়া বিয়ের জন্য চাপ দিলে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রাজ্জাক তাঁর গলা চেপে শ্বাসরোধে হত্যা করে মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যান।
পিবিআই আরও জানায়, ২২ জুলাই আদালতে হাজির করা হলে আব্দুর রাজ্জাক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ বলেন, "তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্লেষণ, সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া আসামি আদালতে স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।"