
মার্চের প্রথম দিনে ফরিদপুরে সাবেক জেলা আওয়ামী লীগ (বর্তমানে পৌর আওয়ামী লীগ) কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে নিষিদ্ধ সংগঠন যুবলীগ কর্মীরা।
তবে এই কর্মসূচির কয়েক ঘণ্টা পর বিকেলে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ওই কার্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের তিনটি স্ট্যান্ড কেটে অপসারণ করেছেন।
রবিবার সকাল ৭টার দিকে শহরের চকবাজার সংলগ্ন থানা রোড এলাকায় অবস্থিত পৌর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শরিফুল হাসান প্লাবনের নেতৃত্বে ৮ থেকে ১০ জন যুবলীগ কর্মী কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন।
এসময় তারা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ এবং ‘শেখ হাসিনা বীরের বেশে আসবে ফিরে বাংলাদেশে’ বলে স্লোগান দেন। পরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও সংক্ষিপ্ত বক্তব্য প্রদান করা হয়।
আওয়ামী লীগের এই কর্মসূচির প্রতিবাদে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ আদনান হোসেনের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা ওই কার্যালয়ে যান।
এসময় তারা কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় থাকা পতাকা উত্তোলনের তিনটি স্টিলের স্ট্যান্ড হ্যাক-স ব্লেড দিয়ে কেটে অপসারণ করেন।
এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদল সভাপতি সৈয়দ আদনান হোসেন বলেন, “কার্যালয়টি থানার পাশেই অবস্থিত। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের লোকজন এখানে এসে পতাকা টানিয়ে পুলিশকে বিব্রত করছে। আজ সকালেও তারা কর্মসূচি পালন করেছে। তাই বিকেলে ছাত্র-জনতা ওই স্ট্যান্ডগুলো অপসারণ করেছে। আমি ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় দাঁড়িয়েছিলাম। তবে এতে নেতৃত্ব দেইনি।”
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলনের কোনো খবর তাদের জানা নেই। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে ওই কার্যালয়টি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে এবং সেখানে কোনও পতাকা নেই।
উল্লেখ্য, শহরের থানা রোডের এই কার্যালয়টি দীর্ঘকাল জেলা আওয়ামী লীগের অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হলেও ২০২২ সালে আলিপুর মহল্লায় নতুন অফিস হওয়ার পর এটি শহর (পৌর) আওয়ামী লীগের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন কার্যালয়টি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং বর্তমানে সেখানে ‘জুলাই স্মৃতি স্মারক’ স্থাপন করা হয়েছে।