
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নবনিযুক্ত প্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে ভাইস অ্যাডমিরাল পদমর্যাদার নতুন র্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসস্থ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ব্যাজ পরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান।
এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যাজ পরানো শেষে নতুন নৌপ্রধানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। বিপরীতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে দেশের সরকারপ্রধানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন নবনিযুক্ত প্রধান।
উক্ত পদক প্রদান অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামসুল ইসলাম, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান, সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. শাহীনুর রহমান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
উল্লেখ্য, ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ১৯৮৭ সালের ১ জানুয়ারি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যুক্ত হন এবং ১৯৮৯ সালে এক্সিকিউটিভ শাখায় কমিশন লাভ করেন। রয়্যাল মালয়েশিয়ান নেভিতে অভাবনীয় সাফল্যের সাথে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা এই কর্মকর্তা দেশে-বিদেশে নানা সামরিক উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি 'মেরিটাইম গভর্ন্যান্স' বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
কর্মজীবনের প্রায় চার দশকের দীর্ঘ যাত্রায় তিনি চট্টগ্রাম ও ঢাকা নৌ অঞ্চলের কমান্ডার, সাবমেরিন কমান্ডার এবং বাংলাদেশ নেভাল একাডেমির কমান্ড্যান্টের মতো অত্যন্ত দায়িত্বপূর্ণ পদে আসীন ছিলেন। এছাড়া নৌ সদর দপ্তরে ডিরেক্টর অফ নেভাল অপারেশনস ও ডিরেক্টর অফ নেভাল প্ল্যানিংয়ের পাশাপাশি একাধিক যুদ্ধজাহাজ ও গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটির অধিনায়ক হিসেবে সফলতা ও পেশাদারত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের অংশ হিসেবে লেবানন ও কঙ্গোতে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন এই শীর্ষ কর্মকর্তা। নতুন দায়িত্বের ঠিক আগেই তিনি ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন, যেখানে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সুদৃঢ় করা ও প্রবাসীদের সার্বিক কল্যাণে বিশেষ ভূমিকা রাখেন তিনি।
সামরিক বাহিনীতে অসামান্য ও অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি নৌবাহিনী পদক (এনবিপি), নৌ পারদর্শিতা পদক (এনপিপি) এবং জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কারসহ বহু রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ও পদকে ভূষিত হয়েছেন।