
পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমজমাট হয়ে উঠেছে। বিএনপি জোটের গণঅধিকার, বিদ্রোহী প্রার্থী, জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা ভোটের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যদিও আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় নেই তাদের কোনো প্রার্থী, তবু তাদের ভোটাররা পুরো সমীকরণ পাল্টে দিতে পারে। তাই আওয়ামী লীগের সমর্থকেরা এখন প্রার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।
এই আসনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বীরা হলেন:
বিএনপি সমর্থিত গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর (ট্রাক প্রতীক),
বিদ্রোহী প্রার্থী ও বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা হাসান মামুন (ঘোড়া প্রতীক),
জামায়াতের অধ্যাপক মু শাহ আলম (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক),
ইসলামী আন্দোলনের মুফতি আবু বকর সিদ্দীক (হাতপাখা প্রতীক)।
শুরু থেকেই আসনটি রাজনৈতিক নজরের কেন্দ্রে রয়েছে। নুরুল হক নুর ও হাসান মামুন একে অপরের মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন। মাঠপর্যায়ে দুই পক্ষই শক্ত অবস্থানে, পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমর্থকরা পাল্টাপাল্টি প্রচারণা ও ব্যক্তিগত আক্রমণ চালাচ্ছেন। জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনও ভোট ভাগাভাগির সুযোগ পেতে পারে।
এই আসন দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়রা জানান, ভোটারদের একটি বড় অংশ ঐতিহ্যগতভাবে আওয়ামীপন্থি। তবে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হাসান মামুনের অনুসারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিপি নুরকে আওয়ামী লীগ বিরোধী হিসেবে তুলে ধরছেন। এতে কিছু আওয়ামী লীগের ভোট ঘোড়ার দিকে যেতে পারে।
স্থানীয়দের মতে, নুরুল হক নুরের ট্রাক প্রতীকের ভোটও শক্ত। গলাচিপার বিভিন্ন এলাকায় ভোটাররা ট্রাক ও ঘোড়া প্রতীকের জন্য সরব। জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের দাঁড়িপাল্লা ও হাতপাখা প্রতীকও সমর্থন পাচ্ছে, তবে ভোটের ব্যবধান তেমন বেশি হবে বলে মনে করা হচ্ছে না।
মুফতি আবু বকর সিদ্দীক বলেন, “বিএনপির কোন্দলের কারণে তাদের কমিটি বিভক্ত। এতে কিছু ভোট আমরা পাবো। এছাড়া আমরা হিন্দু ও আওয়ামী লীগের ভোটারদের কাছ থেকে সমর্থন আশা করছি, কারণ আমরা কাউকে নির্যাতন করিনি।”
অধ্যাপক মু শাহ আলম জানান, “আমরা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সমর্থন পাচ্ছি। জামায়াতে ইসলামীকে মানুষ নিরাপদ মনে করছে, তাই দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেবেন। নির্বাচিত হলে চাঁদাবাজি বন্ধ করবো ও হিন্দুদের সম্পদ রক্ষা করবো।”
নুরুল হক নুরও তার সমর্থন ধরে রাখার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, “গলাচিপা-দশমিনার মানুষ ট্রাকে ভোট দেবেন। আমি উন্নয়ন, শান্তি ও বেকার সমস্যার সমাধানের জন্য কাজ করছি। ব্রিজ পাস করানোসহ দখলদার ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
হাসান মামুন বলেন, “ঘোড়া প্রতীকের জয় হবে। এলাকার হিন্দু ও আওয়ামী লীগের ভোটাররা আমাকে সমর্থন দেবেন। বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরাও আমার পক্ষে কাজ করছেন।”
পটুয়াখালী-৩ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১২৪টি এবং ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭৩ হাজার ৪০৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৭ হাজার ১৭৪ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৮৬ হাজার ২২৬ জন।