
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পদ্মা রেলসেতুর পিলারের নিচ থেকে মাটি কেটে নেওয়ার ভাইরাল ভিডিওর প্রেক্ষিতে জরুরি স্পষ্টীকরণ দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি জানিয়েছেন, পিলারের গোড়া থেকে কোনো মাটি চুরি হয়নি, বরং নির্মাণ কাজের সুবিধার্থে রাখা অতিরিক্ত মাটি নিরাপত্তার স্বার্থেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে আলাপকালে মন্ত্রী এই তথ্য জানান। একই সাথে রাজধানীর পরিবহন শৃঙ্খলা ও যানজট নিরসনে মহাখালী ও সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড শহরের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অগ্রগতিও তুলে ধরেন তিনি।
পিলারের নিরাপত্তা ও ভাইরাল ভিডিওর সত্যতা
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায় পদ্মা রেলসেতুর পিলারের নিচ থেকে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া উদ্বেগ ও সমালোচনার জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, “মাটি খুঁড়ে বা চুরি করে নেওয়া হয়েছে— বিষয়টি মোটেও তেমন নয়। সেতু নির্মাণের সময় সুরক্ষার স্বার্থে কিছু সাময়িক ব্যারিয়ার ও প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছিল। এটি মূলত কনস্ট্রাকশন কাজেরই একটি অংশ ছিল।”
দীর্ঘদিন ধরে ওই অতিরিক্ত মাটি না সরানোর ফলে সেখানে নতুন নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “অতিরিক্ত মাটির কারণে স্থানটি উঁচু হয়ে গিয়েছিল, যা ব্যবহার করে মই দিয়ে সেতুর কিছু জিনিসপত্র চুরির উপক্রম হয়েছিল। সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনা করে ওই বাড়তি মাটি ও অবস্ট্রাকলগুলো এখন অপসারণ করা হয়েছে। শীঘ্রই ওই খালি জায়গায় পরিকল্পিতভাবে গাছ লাগানো হবে।”
ঢাকার বাসস্ট্যান্ড স্থানান্তর: রাতারাতি নয়, সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা
রাজধানীর প্রবেশমুখগুলোর যানজট নিরসনে ঢাকার আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালগুলো সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী। তবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, এই বিশাল কর্মযজ্ঞ রাতারাতি সম্পন্ন করা সম্ভব নয়।
টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, “একটি বাসস্ট্যান্ডে ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টা বাস পার্ক করে রাখার বর্তমান সংস্কৃতি আমরা বন্ধ করতে চাচ্ছি। বাস মূলত ডিপোতে থাকবে এবং ট্রিপ ছাড়ার নির্দিষ্ট সময় আগে টার্মিনালে এসে যাত্রী তুলবে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় বা স্ট্যান্ডে গাড়ি ফেলে রেখে যে যানজট ও অব্যবস্থাপনা তৈরি করা হচ্ছে, তা আর বরদাশত করা হবে না।”
টার্মিনালভিত্তিক বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাগুলো হলো-
মহাখালী বাসস্ট্যান্ড: মহাখালী বাস টার্মিনালটি স্থায়ীভাবে উত্তরায় সরিয়ে নেওয়া হবে। এ জন্য উত্তরায় ৫০ বিঘা জমি অধিগ্রহণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে জমি অধিগ্রহণ ও অবকাঠামো নির্মাণে সময় লাগায় সাময়িক বিকল্প হিসেবে ৩০০ ফিট এলাকায় একটি জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। দীর্ঘ বিরতি থাকা বাসগুলো মহাখালীতে জটলা না পাকিয়ে ৩০০ ফিটের ওই সাময়িক ডিপোতে অবস্থান করবে।
সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড: এই টার্মিনালটিকে স্থায়ীভাবে কাঁচপুরে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তবে কাঁচপুরে চালক ও যাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা ও অবকাঠামো নিশ্চিত হওয়ার পরেই এটি পুরোপুরি কার্যকর হবে। অন্তর্বর্তী সময়ে সায়েদাবাদকে কেবল 'পিক-আপ স্ট্যান্ড' হিসেবে ব্যবহার করা হবে এবং ট্রিপবিহীন গাড়িগুলো মূল ডিপোতে অবস্থান করবে।