
ইসলামি চন্দ্রপঞ্জিকা অনুসরণ করায় প্রতিবছর একই দিনে শুরু হয় না পবিত্র রমজান। গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জির হিসাবে সাধারণত ১০ থেকে ১১ দিন করে এগিয়ে আসে এই পবিত্র মাস। এভাবেই প্রায় ৩৩ বছরের একটি চক্রে মুসলমানরা বছরের বিভিন্ন ঋতুতে রোজা পালনের সুযোগ পান।
চলতি বছরের রমজান শেষ হওয়ার পর এখন অপেক্ষা ২০২৭ সালের পবিত্র মাসের। জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব বলছে, আগামী রমজান সোমবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ থেকে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এর আনুষ্ঠানিক সূচনা নির্ভর করবে নতুন চাঁদ দেখার ওপর।
ইসলামি বর্ষপঞ্জিতে ১২টি মাস রয়েছে এবং একটি চন্দ্র বছর প্রায় ৩৫৪ দিনের। গ্রেগরিয়ান সৌরবর্ষের চেয়ে এই সময় প্রায় ১১ দিন কম হওয়ায় প্রতিবছর রমজান আগের তুলনায় প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন আগে আসে। ফলে কয়েক দশকের ব্যবধানে রমজান শীত, বসন্ত, গ্রীষ্ম ও শরৎ—সব ঋতুতেই ফিরে আসে।
সম্ভাব্য হিসাব অনুযায়ী, ২০২৭ সালের রমজানের নতুন চাঁদ দেখা যেতে পারে ৭ ফেব্রুয়ারি, রোববার সন্ধ্যায়। সেদিন চাঁদ দেখা গেলে রাতেই মুসল্লিরা প্রথম তারাবির নামাজ আদায় করবেন এবং পরদিন সোমবার, ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে পারে প্রথম রোজা।
তবে কোনো এলাকায় ওই সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা না গেলে স্থানীয় ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রমজান শুরু এক দিন পিছিয়ে যেতে পারে। ইসলামি রীতিতে পবিত্র মাসের সূচনা নির্ধারণে নতুন চাঁদ দেখা গুরুত্বপূর্ণ।
রমজান সাধারণত ২৯ অথবা ৩০ দিন স্থায়ী হয়। শাওয়ালের নতুন চাঁদ দেখা যাওয়ার ওপর নির্ভর করবে রমজানের শেষ দিন ও ঈদুল ফিতরের তারিখ। জ্যোতির্বিজ্ঞানের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ঈদুল ফিতর বুধবার, ১০ মার্চ হতে পারে। তবে চূড়ান্ত তারিখও চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল।
ইসলামি বর্ষপঞ্জির নবম মাস রমজান মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র। মুসলিমদের বিশ্বাস, এই মাসেই মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর পবিত্র কোরআন নাজিলের সূচনা হয়। রমজানে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও ধূমপান থেকে বিরত থেকে রোজা পালন করা হয়। একই সঙ্গে নামাজ, দান-সদকা, আত্মসংযম এবং পরিবার ও সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
২০২৭ সালের রমজান আসতে এখনো কয়েক মাস বাকি। তবে মুসলিমপ্রধান দেশগুলোতে ধীরে ধীরে এর প্রস্তুতি শুরু হবে। মসজিদ প্রস্তুত করা, জনসেবামূলক কার্যক্রমের পরিকল্পনা এবং চাঁদ দেখার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া নির্ধারণসহ নানা প্রস্তুতি নেওয়া হবে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানের মাধ্যমে রমজানের সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে আগাম ধারণা পাওয়া গেলেও ইসলামি রীতি অনুযায়ী পবিত্র মাসের আনুষ্ঠানিক সূচনা এখনো নতুন চাঁদ দেখার ওপরই নির্ভরশীল।