
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি ভুয়া ভিডিও ও ফেসবুক পোস্ট ছড়িয়ে দিয়ে মো. সোহেল মিয়ার বিরুদ্ধে মানহানিকর প্রচারণা চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে তার সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি এলাকায় বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কটিয়াদী উপজেলার পশ্চিম গচিহাটা এলাকায় নিজ বাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন সোহেল মিয়া। সেখানে তিনি ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে সোহেল মিয়া অভিযোগ করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাকে নিয়ে একটি আপত্তিকর ও বিভ্রান্তিকর ভিডিও তৈরি করা হয়েছে, যা পরবর্তীতে একটি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ভিডিওটির সত্যতা যাচাই না করেই অনেকে তা শেয়ার করছেন বলে জানান তিনি। এর ফলে তিনি সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হচ্ছেন এবং তার পারিবারিক ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে দাবি করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোহেল মিয়া ওই এলাকায় একজন সম্মানিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত এবং বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা সমাধানে নিয়মিত দেনদরবার করে থাকেন। এ কারণে কারও কারও সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। এ ছাড়া তিনি জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক হওয়ায় রাজনৈতিকভাবেও তার একটি বিরোধী পক্ষ রয়েছে বলে দাবি করেন কয়েকজন বাসিন্দা। তাদের ধারণা, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে তাকে সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে ভিডিওটি তৈরি ও প্রচার করা হয়ে থাকতে পারে।
পারিবারিক সূত্রে দাবি করা হয়, রাজনৈতিক শত্রুতার জের ধরে দীর্ঘদিন ধরে একটি পক্ষ সোহেল মিয়ার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক সময়ে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া ও আপত্তিকর ভিডিওটি তৈরি করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।
ফেসবুকে ভিডিওটি পোস্ট করা মেহেদি হাসান মাক্কা (Mahedi Hasan Makka) বলেন, ভিডিওটির সত্যতা কতটুকু, তা আমার জানা নেই। আমি একটি ফেসবুক গ্রুপে ভিডিওটি পেয়েছি। সেখান থেকেই নিয়ে আমার ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করেছি।
এ বিষয়ে কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।