
পরিবেশ, প্রাণী ও জনস্বাস্থ্যকে আলাদা সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করে কার্যকর সমাধান সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। মানুষ, প্রাণী, উদ্ভিদ ও বাস্তুতন্ত্রকে সমন্বিতভাবে বিবেচনায় নিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ইতালির রোমে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সদর দপ্তরে শুরু হওয়া ‘কৃষিখাদ্য ব্যবস্থায় ওয়ান হেলথ কার্যক্রম’ শীর্ষক বৈশ্বিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। সম্মেলনটি চলবে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
মন্ত্রী বলেন, কৃষিখাদ্য ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা ও সক্ষমতা মানুষের স্বাস্থ্য, প্রাণীর সুস্থতা, পরিবেশ এবং বাস্তুতন্ত্রের সামগ্রিক অবস্থার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই এসব ক্ষেত্রকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার পরিবর্তে সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন।
বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও পরিবেশগত বাস্তবতা তুলে ধরে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ ও নিম্নভূমির গঙ্গা বদ্বীপে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্য হ্রাস এবং পরিবেশগত বিপর্যয়ের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। একই ভূপ্রকৃতিতে মানুষ, বাস্তুতন্ত্র ও কৃষিখাদ্য ব্যবস্থা পরস্পরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। ফলে একটি খাতে চাপ তৈরি হলে তার প্রভাব দ্রুত অন্য ক্ষেত্রেও ছড়িয়ে পড়ে।
তিনি জানান, প্রায় দুই দশক ধরে বাংলাদেশ ‘ওয়ান হেলথ’ ধারণাকে শুধু নীতিগত আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব শাসনব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অংশীদারত্ব গড়ে তোলা হচ্ছে।
বাংলাদেশের অগ্রাধিকারের বিষয় তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয় ও তথ্য বিনিময় বাড়ানো, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ওয়ান হেলথ কাঠামোয় পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি জেলা ও প্রান্তিক পর্যায়ে সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সমন্বয় নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। জাতীয় ওয়ান হেলথ কাঠামোয় পরিবেশ খাতকে আনুষ্ঠানিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যৌথ পরিকল্পনা ও সম্পদের সমন্বয়ের মাধ্যমে এ অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
প্রস্তাবিত ওয়ান হেলথ তথ্যকেন্দ্র বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা বিনিময়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন পরিবেশমন্ত্রী।
তিনি বলেন, রোমের সম্মেলন থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সম্মেলন কপ৩১-এর আলোচনায় কাজে লাগাবে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে জলবায়ু ও পরিবেশগত স্বাস্থ্য নিয়ে আরও সমন্বিত বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরিতে দেশটি কাজ করবে।
বাংলাদেশের সাফল্য ও চ্যালেঞ্জের অভিজ্ঞতা অন্য দেশের সঙ্গে বিনিময়ের পাশাপাশি তাদের অভিজ্ঞতা থেকেও শেখার আগ্রহের কথা জানান তিনি। সম্মেলনের আলোচনা যেন বাস্তব কর্মসূচি, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন এবং স্থানীয় পর্যায়ে সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগে রূপ নেয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেন মন্ত্রী।
সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে এফএওর মহাপরিচালক কু দংইউ, সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট গাই পারমেলিন, তানজানিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. এমউইগুলু এনচেম্বা, সার্বিয়ার প্রধানমন্ত্রী দুরো ম্যাকুট, মোজাম্বিকের স্বাস্থ্যমন্ত্রী উসেনি হিলারিও, কেপ ভার্দের কৃষিমন্ত্রী এভেলিন নায়ের মন্টেইরো রামোস, ফ্রান্সের কৃষিমন্ত্রী জেনেভার্ড অ্যানি এবং আয়ারল্যান্ডের কৃষিমন্ত্রী টি.ডি. মার্টিন হেইডনসহ বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, সরকারি প্রতিনিধি, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধান ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।