
শ্রেণিকক্ষে পরীক্ষা চলাকালীন নিজের ছাত্রের পায়ে গুলি করে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করা সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজের আলোচিত সেই শিক্ষক ডা. রায়হান শরীফকে অস্ত্র আইনের দুটি ধারায় দীর্ঘ ২১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১৮ মে) দুপুরে সিরাজগঞ্জের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক এবং জেলা ও দায়রা জজ ইকবাল হোসেন আসামির কাঠগড়ায় উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তথা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি রফিক সরকার রায়ের এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত ডা. রায়হান শরীফ সিরাজগঞ্জ শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের সন্তান। অন্যদিকে, শিক্ষকের গুলিতে আহত হওয়া ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আরাফাত আমিন তমাল (২২) বগুড়ার ধুনট উপজেলার ধামাচাপা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল আমিনের ছেলে।
মামলার বিবরণী ও এজাহার থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ মার্চ ওই মেডিক্যাল কলেজের একাডেমিক ভবনের চতুর্থ তলায় পরীক্ষা নেওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সাথে আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো ছুরি নিয়ে এসেছিলেন ডা. রায়হান শরীফ। পরীক্ষা চলাকালীন এক পর্যায়ে তিনি নিজের ব্যাগ থেকে একটি পিস্তল বের করে ছাত্র আরাফাত আমিন তমালকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। গুলিটি সরাসরি তমালের ডান পায়ে বিদ্ধ হলে তিনি মারাত্মক জখম হন।
এই নৃশংস ঘটনার পর সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে শ্রেণিকক্ষেই অবরুদ্ধ করে পুলিশে খবর দেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে রায়হান শরীফের কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, তাজা গুলি, ম্যাগাজিন এবং বেশ কয়েকটি বিদেশি ছোরা ও চাকু উদ্ধারসহ তাকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে। এই ঘটনার পর ওই শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা টানা আন্দোলনে নামেন।
পরবর্তীতে এই ঘটনায় সিরাজগঞ্জ ডিবি পুলিশের এসআই ওয়াদুদ আলী এবং আহত শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে আদালত আজ ডা. রায়হান শরীফকে দোষী সাব্যস্ত করে অস্ত্র আইনের দুটি ভিন্ন ধারায় ২১ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন। পিপি রফিক সরকার জানান, আসামির পূর্বের হাজতবাসের সময়কাল এই মূল কারাদণ্ডের মেয়াদ থেকে বাদ দিয়ে সমন্বয় করা হবে।