
অধিকৃত ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে চরমপন্থী ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের আগ্রাসন এবার পবিত্র উপাসনালয় পর্যন্ত গড়াল। রামাল্লাহর উত্তরাঞ্চলীয় দুটি গ্রামে রাতের অন্ধকারে প্রবেশ করে দুটি পবিত্র মসজিদে অগ্নিসংযোগ করেছে একদল উগ্র ইসরায়েলি। শুধু আগুন দেওয়াই নয়, মসজিদ দুটির দেওয়ালে হিব্রু ভাষায় বিভিন্ন উসকানিমূলক স্লোগানও লিখে রেখে গেছে হামলাকারীরা।
তুর্কি সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানিয়েছে, ভোরের আলো ফোটার ঠিক আগে একদল ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী আকস্মিকভাবে জিলজিলিয়া গ্রামে ঢুকে পড়ে এবং ওখানকার মসজিদে আগুন লাগিয়ে দেয়। এতে মসজিদটির নারীদের জন্য নির্ধারিত নামাজের কক্ষটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয় এবং মূল ভবনের বাইরের অংশও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সাম্প্রতিক সময়ে জিলজিলিয়া গ্রামে ইসরায়েলিদের এই ধরনের সহিংসতা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি গত মাসেও এই একই গ্রামে হামলা চালিয়ে ফিলিস্তিনিদের একটি ভেড়ার পাল সম্পূর্ণ লুট করে নিয়ে গিয়েছিল উগ্রবাদীরা।
একই সময়ে পাশের মাজরা আল-নুবানি গ্রামেও সমান্তরাল হামলা চালায় ইসরায়েলিরা। সেখানেও একটি মসজিদে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। দুটি ঘটনার পরই দেখা গেছে, হামলাকারীরা মসজিদ দুটির দেওয়ালে হিব্রু ভাষায় নিজেদের স্লোগান লিখে রেখে চম্পট দিয়েছে।
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ পশ্চিম তীরে গত কয়েক মাস ধরে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এবং সশস্ত্র বসতি স্থাপনকারীদের যৌথ তাণ্ডব এক নতুন মাত্রা নিয়েছে। নির্বিচারে অগ্নিসংযোগ, ফিলিস্তিনিদের পৈতৃক জমি দখল, কৃষকদের নিজেদের ফসলি জমিতে প্রবেশ করতে না দেওয়া এবং ঘরবাড়িসহ মৌলিক অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়ার মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা এখন নিত্যদিনের চিত্র।
ফিলিস্তিনি সরকারি দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে চলমান এই সহিংসতায় কেবল পশ্চিম তীরেই ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে ১,১৬৯ জন ফিলিস্তিনি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া গুরুতর আহত হয়েছেন আরও ১২,৬৬৬ জন এবং প্রায় ২৩ হাজার ফিলিস্তিনিকে গ্রেফতার করে বন্দি করা হয়েছে। এই দীর্ঘমেয়াদি ও নৃশংস অভিযানের কারণে একই সময়ে অঞ্চলের প্রায় ৩৩ হাজার মানুষ নিজের ভিটেমাটি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য হয়েছেন।