কার মাথায় উঠবে পশ্চিমবঙ্গের রাজমুকুট? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হ্যাটট্রিক নাকি পদ্ম শিবিরের ঐতিহাসিক উত্থান— এই অমীমাংসিত প্রশ্নের উত্তর মিলবে আজ। চরম উত্তেজনা আর নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার বেষ্টনীতে শুরু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের বহু প্রতীক্ষিত ফলাফল ঘোষণা।
গণনার খুঁটিনাটি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
সোমবার (৪ মে) স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৮টা) আনুষ্ঠানিকভাবে ভোট গণনা শুরু হয়েছে। গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় রাজ্যের ২৯৪টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আজ কলকাতাসহ মোট ২৩টি জেলার ৭৭টি কেন্দ্রে একযোগে চলছে এই কার্যক্রম। উল্লেখ্য, গত নির্বাচনের তুলনায় এবার গণনাকেন্দ্রের সংখ্যা ৩১টি হ্রাস পেয়েছে।
কলকাতার ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রটি বর্তমানে রাজ্যের বৃহত্তম গণনাকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে, যেখানে মহানগরের ১১টি আসনের মধ্যে ৭টির ভাগ্য নির্ধারণ করা হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী, শুরুতে পোস্টাল ব্যালট এবং পরবর্তীতে ইভিএম-এর (EVM) ভোট গণনা করা হবে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা:
গণনাকেন্দ্রগুলোতে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
অনুমোদিত প্রতিনিধিদের জন্য কিউআর (QR) কোডযুক্ত বিশেষ পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
নির্বাচনী কর্মকর্তা ব্যতীত সাধারণ গণনাকারী প্রতিনিধিদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
নজরে হাইভোল্টেজ লড়াই ও আলোচিত প্রার্থীরা
পুরো ভারতের নজর এখন নন্দীগ্রামের দিকে, যেখানে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর একসময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী বর্তমানে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী সম্মুখ সমরে অবতীর্ণ হয়েছেন। এই দ্বৈরথের ফলাফলই মূলত নির্ধারণ করবে রাজ্যের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব।
এছাড়াও যাদের ফলাফলের দিকে রাজনৈতিক মহলের চোখ রয়েছে:
তৃণমূল কংগ্রেস: ফিরহাদ হাকিম, দেবাশীষ কুমার, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ, শশী পাঁজা এবং মধুপর্ণা ঠাকুর।
বিজেপি: রুদ্রনীল ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অর্জুন সিং, তরুণজ্যোতি তিওয়ারি ও রত্না দেবনাথ।
বাম-কংগ্রেস ও অন্যান্য: বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য, মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, সায়নদ্বীপ মিত্র, অধীর চৌধুরী, মৌসুম বেনজীর নূর, শুভংকর সরকার, মনোজ চক্রবর্তী, শাহনাজ বেগম, আবদুর রাজ্জাক মোল্লা এবং নওশাদ সিদ্দিকী।
ফলাফল কখন জানা যাবে?
প্রাথমিক প্রবণতা বা কোন দল এগিয়ে রয়েছে তার স্পষ্ট ধারণা দুপুর ১২টার মধ্যেই পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে কিছু নির্দিষ্ট কেন্দ্রে লড়াই হাড্ডাহাড্ডি হলে চূড়ান্ত ফলাফল পেতে রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।
তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা