
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করে জোরপূর্বক তার চেয়ার দখলের অভিযোগে করা মামলায় সাতক্ষীরার এক সহকারী শিক্ষক ও স্থানীয় জামায়াত নেতাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. নজরুল ইসলাম আসামি এ কে এম আজহারুজ্জামান মুকুলের জামিন আবেদন খারিজ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এ কে এম আজহারুজ্জামান মুকুল সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বল্লী ইউনিয়নের হাজীপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। তিনি বল্লী ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি এবং বল্লী মো. মুজিবুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।
মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে আজহারুজ্জামান মুকুল একদল বহিরাগতকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জামিলুজ্জামানকে তার কক্ষ থেকে টেনে বের করে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া দুটি ভিডিওতে দেখা যায়, বহিরাগতরা প্রধান শিক্ষককে মারধর করছে এবং আজহারুজ্জামান মুকুল তার চেয়ারে বসে দম্ভভরে বলছেন, “আমার রাজ্যে আমি রাজা, কারও কথা শোনার সময় আমার নেই।” একই সঙ্গে তিনি জামিলুজ্জামানকে বিদ্যালয়ে ফেরার চেষ্টা করলে “চিরতরে উপরে পাঠিয়ে দেওয়ার” হুমকিও দেন।
এই ঘটনার পর ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জামিলুজ্জামান সাতক্ষীরার আমলি আদালত-১ এ মামলা দায়ের করেন (মামলা নং- ৭১/২৪)। আদালত ঘটনাটি তদন্তের দায়িত্ব দেয় সিআইডিকে। তদন্ত শেষে সিআইডি কর্মকর্তা মাছুদ পারভেজ ঘটনার সত্যতা পেয়ে ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর মুকুলসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
এর আগে আজহারুজ্জামান মুকুল উচ্চ আদালত থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন নিয়ে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ পান। সেই নির্দেশ অনুযায়ী বৃহস্পতিবার জেলা জজ আদালতে হাজির হয়ে তিনি জামিন আবেদন করেন। তবে আদালত তার আবেদন নাকচ করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হলেও গত ১২ বছর ধরে আজহারুজ্জামান মুকুল বিদ্যালয়ে নিয়মিত ছিলেন না। তবুও রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তিনি নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে মামলার বাদী জামিলুজ্জামান ২০০২ সাল থেকে ওই বিদ্যালয়ে কর্মরত। বিধি অনুযায়ী সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর তিনি প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল মুজিদ জানান, দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে একজন শিক্ষককে লাঞ্ছিত করা এবং অবৈধভাবে প্রধান শিক্ষকের চেয়ার দখলের বিষয়টি সিআইডির তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। তাই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, এই মামলায় আগে অভিযুক্ত মহব্বত খাঁ ও আজমল হোসেনকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। তবে বর্তমানে তারা জামিনে মুক্ত রয়েছেন।