
রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার অন্যতম সুরক্ষিত স্থান বাংলাদেশ সচিবালয়ের ভেতরে খোদ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিশেষ ‘লাল টেলিফোন’ সংযোগের তামার তার চুরির চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এই স্পর্শকাতর চুরির রহস্য উদ্ঘাটন করে চোরাই মালসহ দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হলেন—সচিবালয়ের আউটসোর্সিং কর্মী রঞ্জন চন্দ্র (২৫) এবং ভাঙারি ব্যবসায়ী রেজাকুল ইসলাম (৩২)।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে সিটিটিসির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র গণমাধ্যমকে এই গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উদ্ধারকৃত রাষ্ট্রীয় টেলিযোগাযোগের অত্যন্ত মূল্যবান এই তামার তারগুলো ভাঙারির দোকানে নামমাত্র মূল্যে অর্থাৎ প্রতি কেজি মাত্র ৬০০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়েছিল। অভিযুক্তরা সর্বমোট ৮ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের তামার তার বিক্রি করে দেন।
সিটিটিসি সূত্রে জানা গেছে, অতি সম্প্রতি সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অতি গোপনীয় লাল টেলিফোন লাইনের তার চুরির মতো একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও সংবেদনশীল ঘটনা ঘটে। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ এই লাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে একটি মামলা দায়ের করে। বিষয়টি পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি করে।
ঘটনার গুরুত্ব ও সর্বোচ্চ সংবেদনশীলতা আমলে নিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বিশেষায়িত শাখা সিটিটিসির সিটি ইন্টেলিজেন্স অ্যানালাইসিস বিভাগ ঘটনার একটি ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার এবং গোপন সূত্রের সংবাদের ওপর ভিত্তি করে আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে কর্মরত আউটসোর্সিং কর্মী রঞ্জন চন্দ্রকে প্রথমে হেফাজতে নেওয়া হয় এবং নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
তীব্র জিজ্ঞাসাবাদের মুখে একপর্যায়ে রঞ্জন চন্দ্র অপরাধ স্বীকার করে জানান যে, গত ২২ মে সচিবালয়ের ৩ নম্বর ভবন থেকে তিনি কৌশলে এই তারগুলো চুরি করেছিলেন। পরবর্তীতে গত ১ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে হলের সামনে অবস্থিত একটি ভাঙারির দোকানে গিয়ে প্রতি কেজি ৬০০ টাকা দরে মোট ৮ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের এই তামা বিক্রি করে দেন।
পরবর্তীতে রঞ্জনের দেওয়া নিখুঁত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বিশেষ অভিযান চালিয়ে একুশে হলের সামনের সেই ভাঙারি ব্যবসায়ী রেজাকুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তি ও দেখানো স্থান অনুযায়ী চকবাজার থানার ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের হোসেনী দালান রোডের একটি ভাঙারির গোপন গুদামঘর থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল টেলিফোন সংযোগের চুরি যাওয়া সমস্ত তামার তার অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্ত শেষে সিটিটিসির কর্মকর্তাদের ধারণা, সচিবালয়ের মতো সুরক্ষিত এলাকায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর সংযোগের তার চুরির পেছনে একটি সুসংগঠিত চোর চক্র সক্রিয় রয়েছে। এই চক্রের মূল হোতাদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে শনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পুলিশের চিরুনি তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।