
লং মার্চে বাধা দেওয়া হলে রাজপথে প্রতিরোধ গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী। একই সঙ্গে বিরোধী দলগুলোর ঘোষিত লং মার্চে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি খরচের প্রশ্ন তুলে সরকারের পক্ষ থেকে করা সমালোচনারও জবাব দিয়েছেন তিনি।
নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সরকারি সফর ও কর্মসূচিতে যদি জ্বালানি সংকট না থাকে, তাহলে জনগণের লং মার্চেও জ্বালানি সংকট দেখানোর সুযোগ নেই।
সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেল ৫টায় রাজধানীর আল ফালাহ মিলনায়তনে লং মার্চ উপলক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, লং মার্চে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করা হলে রাজপথেই তা মোকাবিলা করা হবে। সরকার শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনের সুযোগ দেবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
লং মার্চে প্রায় এক লাখ লিটার জ্বালানি লাগবে—এমন আলোচনা এবং সরকারের পক্ষ থেকে এ নিয়ে প্রশ্ন তোলার বিষয়ে পাল্টা প্রশ্ন করেন পাটোয়ারী।
তিনি বলেন, লং মার্চ একটি গণতান্ত্রিক কর্মসূচি। তাই এতে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনের সুযোগ দেওয়া উচিত।
মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, জাগপার সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমীনসহ ১১ দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধসহ ছয় দফা দাবিতে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম লং মার্চ করবে ১১ দলীয় ঐক্য। এ কর্মসূচির প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার গত ছয় মাসে গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানো এবং জনদুর্ভোগ, বিদ্যুৎ, সার ও গ্যাস সংকট সমাধানে ব্যর্থতার প্রমাণ দিয়েছে। সংসদে ও সংসদের বাইরে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে কটু ভাষায় কথা বলা হচ্ছে এবং সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা বিরোধীদলীয় এমপিদের ওপর হামলা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখতে বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক কর্মসূচি লং মার্চে সরকার কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করবে না বলে তারা আশা করছেন। শান্তিপূর্ণ ও গঠনমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকার, সরকারদলীয় শীর্ষ নেতা ও সরকারি আমলাদের সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে কোথাও বাধা দেওয়া, সন্ত্রাসীদের দিয়ে হামলা, ভয়ভীতি দেখানো কিংবা নাশকতার চেষ্টা করা হলে প্রমাণ হবে—জুলাই অভ্যুত্থানের পর জুলাই সনদের আলোকে আকাঙ্ক্ষিত নতুন বাংলাদেশকে সরকার ধারণ করে না। লং মার্চ বাধাগ্রস্ত করা হলে সরকারের প্রতি জনঅনাস্থা আরও বাড়বে।
১১ দলের নেতারা বলেন, ৫ সেপ্টেম্বরের লং মার্চে কোনো ধরনের বাধা দেওয়া হলে সব বাধা অতিক্রম করে চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে পৌঁছাবেন তারা। জনগণের অধিকার আদায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি নিয়ে জনগণের কাছে যাচ্ছেন ১১ দলের নেতারা। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবি দেশের সব জনগণের—এ কারণেই লং মার্চ কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
নেতারা আরও অভিযোগ করেন, লং মার্চ কর্মসূচি ঘোষণার পর থেকেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তীব্র যানজট দেখা যাচ্ছে। তাদের দাবি, এটি কৃত্রিম যানজট। লং মার্চের দিন কৃত্রিম যানজট সৃষ্টি কিংবা বালুবাহী ট্রাক বা খালি ট্রাক দিয়ে লং মার্চের বহর বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে।
এ সময় পুলিশ প্রশাসন, সরকারি আমলা ও ট্রাফিক বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে লং মার্চ কর্মসূচি সফল করতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান ১১ দলের নেতারা।
মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ১১ দলের নেতারা। এ সময় তারা শুভেচ্ছা বক্তব্যও দেন।
১১ দলের কর্মসূচির ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় রাজধানীর শাপলা চত্বরে সমাবেশের মাধ্যমে চট্টগ্রামের উদ্দেশে লং মার্চ শুরু হবে। পথে নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহিপাল ও চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পথসভা করবে লং মার্চের বহর। এছাড়া অনির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্থানে বিপুল জনসমাগমে ১১ দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেবেন। স্থানীয় পথসভাগুলোর ব্যবস্থাপনা করবেন ১১ দলের স্থানীয় নেতারা।