
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় একটি ফিসারির পাড়ে গাঁজা চাষের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সরেজমিনে উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের গাংগাইল গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় বাসিন্দা মো. রোমান মিয়ার মালিকানাধীন একটি মৎস্য ঘেরের ভেতরে পাহারাদারের জন্য নির্মিত ঘরের পাশে ৩ থেকে ৫ ফুট উচ্চতার কয়েকটি গাঁজা গাছ পরিচর্যা করা হচ্ছে।
অভিযুক্ত রোমান মিয়া গাংগাইল গ্রামের বড়বাড়ির বাসিন্দা এবং মোনতাজ মাস্টারের ছেলে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রোমান মিয়া দীর্ঘদিন ধরে তার ফিসারির ভেতরে গোপনে গাঁজার গাছ রোপণ ও পরিচর্যা করে আসছেন। সম্প্রতি ফিসারির সামনের দিকে থাকা একটি গাছ বড় হয়ে দৃশ্যমান হলে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয় এবং পরে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
এলাকাবাসীর দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য হওয়ায় দীর্ঘদিন কেউ এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাননি।
গাংগাইল গ্রামের বাসিন্দা মো. মানিক মিয়া বলেন, ‘দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। অথচ আমাদের এলাকায় প্রকাশ্যে গাঁজা চাষের অভিযোগ ওঠার পরও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যায়নি। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা চাই।’
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রতিনিধিরা বলেন, মাদক সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের জন্য মারাত্মক হুমকি। ফিসারির পাড়ে গাঁজা চাষের অভিযোগের দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে করিমগঞ্জ উপজেলাজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদারের দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রোমান মিয়ার বাড়িতে গিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। একাধিকবার মোবাইল ফোনে কল দিলেও তিনি সাড়া দেননি।
করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গাঁজা চাষের বিষয়ে এর আগে আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। মাদক চাষ বা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। বিষয়টি তদন্তে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’