
ফুটবল মাঠে বর্ণবাদী আচরণের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। তরুণ স্প্যানিশ ফুটবলার লামিনে ইয়ামালের ক্যারিয়ারেও এমন তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে। তার দাবি, জীবনে সরাসরি হাজারবার বর্ণবাদের শিকার হয়েছেন তিনি।
মাত্র ১৯ বছর বয়সেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেয়েছেন ইয়ামাল। তবে শীর্ষ পর্যায়ে উঠে আসার এই পথটা তার জন্য সবসময় মসৃণ ছিল না। মাঠে পারফরম্যান্সের পাশাপাশি বর্ণবাদী আক্রমণও সহ্য করতে হয়েছে তাকে।
বার্নাব্যুতে বর্ণবাদী তাচ্ছিল্যের শিকার
২০২৪ সালের অক্টোবরে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে বার্সেলোনার ম্যাচে বর্ণবাদী আচরণের শিকার হন ইয়ামাল। ওই ম্যাচে তার সঙ্গে রাফিনিয়া ও আনসু ফাতিকেও বর্ণবাদী গালিগালাজ শুনতে হয়েছিল।
নিজের এমন অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে ইয়ামাল জানান, শুধু মাঠে সরাসরি আক্রমণই নয়, নানা ধরনের মন্তব্য ও আচরণের মধ্যেও বর্ণবাদের প্রকাশ দেখতে পান তিনি।
স্প্যানিশ সম্প্রচারমাধ্যম মুভিস্টারের ‘ইউনিভার্সো ভালদানো’ অনুষ্ঠানে সাবেক আর্জেন্টাইন ফুটবলার হোর্হে ভালদানোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে কথা বলেন ইয়ামাল।
‘হাজারবার’ বর্ণবাদের শিকার
সাক্ষাৎকারে ইয়ামালকে সরাসরি বর্ণবাদের শিকার হয়েছেন কি না—এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি সংক্ষেপে উত্তর দেন, ‘হাজারবার।’
বর্ণবাদ অনেক সময় মানুষের অজান্তেও প্রকাশ পায় বলে মনে করেন ইয়ামাল। তিনি বলেন, ‘মানুষ পরোক্ষভাবে আপনার প্রতি বর্ণবাদী আচরণ করে, কিন্তু হয়তো নিজেরাই সেটা বুঝতে পারে না। অনেক মন্তব্য বা দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যেই বর্ণবাদ থাকে, অথচ তারা তা খেয়ালই করে না।’
গায়ের রং নিয়ে মন্তব্যে আপত্তি নেই ইয়ামালের
তবে শুধু তার গায়ের রং নিয়ে কেউ মন্তব্য করলেই সেটিকে অপমান হিসেবে দেখেন না ইয়ামাল। তার কাছে মূল বিষয় হলো, মন্তব্যটি কী উদ্দেশ্যে এবং কীভাবে করা হচ্ছে।
ইয়ামাল বলেন, ‘কেউ যদি আমাকে কৃষ্ণাঙ্গ বলে, তাতে আমার একটুও খারাপ লাগবে না। শেষ পর্যন্ত আমি কৃষ্ণাঙ্গ, অন্য কোনো বর্ণের তো নই। বিষয়টি হলো, কথাটি ভালোভাবে বলা হচ্ছে, নাকি খারাপভাবে। আমাকে অপমান করার উদ্দেশ্যে বলা হচ্ছে কি না।’
মাঠে দর্শকের কাছ থেকে আসা সব মন্তব্যকেই অপমান হিসেবে দেখেন না বলেও জানান এই তরুণ ফুটবলার।
ইয়ামাল বলেন, ‘আমি যদি কোনো ম্যাচ খেলি এবং কেউ আমাকে দেখতে টিকিট কেটে মাঠে আসে, তাহলে শুধু আমাকে অসম্মান করেছে বলে আমি রেগে যাব না।’