
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, বাজেট কেবল রাষ্ট্রের আয়-ব্যয়ের একটি আনুষ্ঠানিক হিসাব নয়; এটি দেশের জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা, উন্নয়ন অগ্রাধিকার এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনার বাস্তব প্রতিফলন।
বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথ কক্ষে ‘বাজেট হেল্পডেস্ক-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্পিকার বলেন, বাজেট হেল্পডেস্ক সংসদ সদস্যদের বাজেট সম্পর্কিত বিভিন্ন গবেষণামূলক তথ্য ও উপাত্ত সরবরাহের মাধ্যমে জাতীয় সংসদে আরও কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে সহায়তা করবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মণি, বিরোধী দলের নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান, বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিদলের প্রধান মাইকেল মিলার এবং অর্থ বিভাগের সচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার।
স্পিকার তাঁর বক্তব্যে ঐতিহাসিক অর্থনৈতিক সংস্কারের কথা স্মরণ করে বলেন, “১৯৯১ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের প্রয়াত অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান কর্তৃক মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) প্রবর্তন ছিল দেশের অর্থনীতিতে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।” তিনি আরও বলেন, বাজেট দেশের প্রতিটি নাগরিকের জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করে। দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের লক্ষ্যেই সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। তাই দেশের স্বার্থ এবং জনগণের কল্যাণকে প্রাধান্য দিয়ে সকল সংসদ সদস্যকে জনমুখী ভূমিকা পালন করতে হবে।
স্পিকার জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থনৈতিক সহায়তায় এবং সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) কারিগরি সহায়তায় সংসদের ‘বাজেট অ্যানালাইসিস অ্যান্ড মনিটরিং ইউনিট’-এর তত্ত্বাবধানে এই বাজেট হেল্পডেস্ক কাজ করবে, যা সংসদীয় কার্যক্রমের গুণগত মানোন্নয়নে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।
অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান বলেন, “জাতির ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা পূরণে বাজেট হেল্পডেস্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। বাজেটে অর্থ সংস্থানের তিনটি মূল উৎস—জনগণের কর, দেশি-বিদেশি ঋণ এবং বৈদেশিক অনুদানের মধ্যে সঠিক সমন্বয় করতে হয়। মনে রাখতে হবে, এই অর্থের প্রকৃত মালিক দেশের জনগণ।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাজেটের আকার কত বড়, তার চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এর বাস্তবায়নে স্বচ্ছতার অভাব। বাজেটের অর্থ যেন ব্যক্তিবিশেষের পকেটে না গিয়ে সম্পূর্ণভাবে জনকল্যাণে ব্যয় হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মণি বলেন, জাতীয় বাজেটকে মাত্র আয়-ব্যয়ের হিসাব হিসেবে দেখলে চলবে না; এটি দেশের উন্নয়ন দর্শন ও রাষ্ট্র পরিচালনার অগ্রাধিকারের দলিল। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে বাজেট অন্যতম ভূমিকা পালন করে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে, একটি দেশের আন্তর্জাতিক মর্যাদা ও সক্ষমতা অনেকাংশে তার অর্থনৈতিক শক্তির ওপর নির্ভরশীল। দক্ষ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, সুশাসন এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারলেই দেশ কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারবে।