
বর্তমান প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ভূরাজনীতির গতিপ্রকৃতি যে বহুলাংশে অর্থনৈতিক স্বার্থকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে, সেই বাস্তবতাকে আরও একবার মনে করিয়ে দিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি ও কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে চীন যে আজ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, সে বিষয়টিকেও তিনি বিশেষভাবে তুলে ধরেন।
শনিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের পদ্মা হলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএফএ) কর্তৃক আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্কের ওপর জোর দিয়ে বলেন, "সংগত কারণেই আমাদের দেশের অর্থনীতিও বিশেষ করে আমাদের বাণিজ্য পরিপূর্ণভাবে চীন নির্ভর হয়ে পড়েছে। এবং সে কারণে আমরা চীনকে আমাদের অর্থনৈতিক এবং বাণিজ্যিকের প্রেক্ষাপটে যেমন বাধ্যবধকতা আছে বন্ধুত্ব তৈরি করা, তেমনি আমাদের মধ্যে আন্তরিক আগ্রহ আছে। আমাদের মত দেশকে যদি এগিয়ে যেতে হয়, আমাদের অর্থনীতির গতিকেই আরো অনেক বেশি প্রবাহিত করতে হবে। যা আমাদের নেতা তারেক রহমান ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই বারবার করে বলেছেন। এবং আমাদের এই স্ট্রাটেজিক টার্গেটের সব চাইতে গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু হতে পারে চীন। কেননা চীনের সেই সামর্থ্য আছে।"
দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্যিক ভারসাম্যহীনতার চিত্র তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, "আমাদের দেশের যে এফডিআই স্টক, তার মধ্যে চীনের অবস্থা হচ্ছে দ্বিতীয়। আমাদের দেশের যে বাণিজ্য ঘাটতি, তার মধ্যে চীনের উপরে নির্ভর করে সব চাইতে বেশি ঘাটতি আমাদেরকে বহন করতে হচ্ছে। কেননা চীন থেকে আমাদের বাণিজ্যের চিত্র প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার। এই ২০ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে প্রায় সবটাই আমাদেরকে আমদানি করতে হয় চীন থেকে। আমাদের এখান থেকে আমরা এক বিলিয়ন ডলারও রপ্তানি করতে পারি না।"
বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, "আমাদের এই রপ্তানি সামর্থ্য বাড়ানোর জন্য চীন সরকারের একটা প্রচণ্ড আগ্রহ আছে। এটাই হচ্ছে আমাদের বন্ধুত্বের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ স্ট্রাটেজিক পয়েন্ট। চীনের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্ব নিয়ে অন্য যে যাই দেখা করুক না কেন, চীনের এই আগ্রহ এবং আমাদের এই প্রয়োজন—এটাই হচ্ছে আমাদের দুই দেশের বন্ধুত্বের স্ট্রাটেজিক ইউনিটি পয়েন্ট, মিউচুয়াল ইন্টারেস্ট পয়েন্ট।"
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও যোগ দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
এছাড়া আমন্ত্রিত বিশেষ অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, শিমুল বিশ্বাস এমপি এবং সানজিদা ইসলাম তুলি এমপি।
উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট নাজমুল হক নান্নু। ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যকার পারস্পরিক অংশীদারিত্ব, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং জনগণের মেলবন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এই সেমিনারে বিভিন্ন দেশের উচ্চপদস্থ কূটনীতিক, শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সমাজের বিশিষ্ট নাগরিকরা অংশ নেন।