
সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক আদালতের অনুমতি ছাড়া দেশ ছাড়তে পারবেন না—এমন নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। তবে বিভিন্ন মামলায় তার জামিন বহাল থাকায় যেকোনো সময় তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পেতে পারেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু।
সোমবার (১৭ আগস্ট) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।
এদিকে, সাবেক প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে সর্বশেষ দায়ের হওয়া মামলাতেও জামিন বহাল রেখেছেন চেম্বার আদালত। রাজধানীর বনানী থানায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলাটি নিয়ে এ আদেশ দেওয়া হয়। এর আগে বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই মামলায় তাকে জামিন দিয়েছিলেন। সোমবার চেম্বার আদালত সেই জামিন বহাল রাখেন।
এর আগে গত ২ জুলাই রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা খোয়াইব হত্যা মামলায় খায়রুল হকের জামিন বহাল রাখেন চেম্বার আদালত। পরে বনানী থানার মামলায় তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। গত ৩০ জুন যাত্রাবাড়ী থানায় করা খোয়াইব হত্যা মামলায় হাইকোর্ট তাকে জামিন দিয়েছিলেন।
গত ২৩ মে পৃথক সাত মামলায় জামিন পাওয়ার পর সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে আবারও যাত্রাবাড়ী থানার খোয়াইব হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হকের আদালত এ আদেশ দেন। এর আগে ১৬ মে যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক মো. ইব্রাহিম খলিল তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে যাত্রাবাড়ী পদচারী–সেতুর নিচে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন খোয়াইব। বেলা ১১টার দিকে আন্দোলনকারীরা মিছিল নিয়ে যাত্রাবাড়ী মোড়ের দিকে এগিয়ে গেলে শেখ হাসিনাসহ অন্য আসামিদের নির্দেশ ও মদতে পুলিশ, র্যাব এবং আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠন যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের অস্ত্রধারীরা আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে আকস্মিক গুলি চালায়।
এতে খোয়াইব গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহত খোয়াইবের ভাই জোবায়ের আহম্মেদ ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৮০ জনকে আসামি করা হয়।
এর আগে গত বছরের ২৪ জুলাই সকালে ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। পরে পর্যায়ক্রমে তাকে আটটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।