
বিদেশি ব্যাংক গ্যারান্টি বা স্ট্যান্ডবাই লেটার অব ক্রেডিট (এসবিএলসি) ভিত্তিক ঋণ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে সুশাসন, বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া এবং এসব গ্যারান্টির কার্যকারিতা স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত ও আইনিভাবে যাচাই করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো ঋণগ্রহীতা খেলাপি হলে এবং তার ফলে বিদেশি ব্যাংক গ্যারান্টি বা এসবিএলসি নগদায়ন কিংবা দাবি করার পরিস্থিতি তৈরি হলে তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করতে হবে।
এ ছাড়া ঋণ অনুমোদনের আগে ঋণদাতা ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে গ্রাহকের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী, নগদ প্রবাহ বিশ্লেষণ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আর্থিক সূচক পর্যালোচনা করতে হবে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা, ঋণ পরিশোধের সামর্থ্য এবং সামগ্রিক ঋণযোগ্যতা সম্পর্কে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানকে সন্তুষ্ট হতে হবে।
ঋণের শর্তাবলির অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট অর্থের বিপরীতে নবায়ন করা ব্যাংক গ্যারান্টি বা এসবিএলসি লিয়েন রাখা যেতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নিশ্চিত করতে হবে যে ঋণগ্রহীতার ব্যবসায়িক অবস্থার উন্নতি হয়েছে—যেমন টার্নওভার বৃদ্ধি, মুনাফা এবং নগদ প্রবাহে ইতিবাচক পরিবর্তন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন অনুযায়ী হিসাবের লেনদেনও সন্তোষজনক হতে হবে।
আরও বলা হয়েছে, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে অর্থায়নের ক্ষেত্রে বিদেশি ব্যাংক গ্যারান্টি বা এসবিএলসি অবশ্যই অনুমোদিত ডিলারের মাধ্যমে আসতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী এগুলো ব্যাক-টু-ব্যাক বিদেশি গ্যারান্টি অথবা সমপরিমাণ নগদ জমার বিপরীতে ইস্যু করতে হবে।
এছাড়া গ্যারান্টি নগদায়নের মাধ্যমে পাওয়া অর্থ দেশীয় ঋণগ্রহীতা ও বিদেশি গ্যারান্টারদের মধ্যকার চুক্তির ভিত্তিতে ইকুইটি বিনিয়োগ হিসেবে রিপোর্ট করতে হবে বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।