
এক ধাক্কায় বিদ্যুতের দাম একলাফে অনেকটা বাড়িয়ে দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ জনস্বার্থবিরোধী আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। গ্রাহক ও পাইকারি পর্যায়ে অস্বাভাবিক এই মূল্যবৃদ্ধি অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবিতে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের লাগামহীন দাম নিয়ন্ত্রণের দাবিতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব বিভাগীয় ও বড় মহানগরে একযোগে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে দলটি।
বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিশেষ বিবৃতিতে দলটির কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। তিনি তাঁর বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) তাড়াহুড়ো করে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং পাইকারি পর্যায়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ বৃদ্ধির যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা গণবিরোধী।
বিবৃতিতে বর্তমান প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করে বলা হয়েছে, সরকার সাধারণ মানুষের পকেট কাটার চরম নিষ্ঠুর খেলায় মেতে উঠেছে। আসন্ন বাজেটকে সামনে রেখে তড়িঘড়ি করে বিদ্যুতের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি করা সাধারণ মানুষের ওপর বড় ধরনের জুলুম। এমনিতেই সব নিত্যপণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতিতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে, তার ওপর বিদ্যুতের এই মূল্যবৃদ্ধি মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা।
নতুন করে বিদ্যুৎ মহার্ঘ্য করার এই নেতিবাচক প্রভাব কোথায় গিয়ে পড়বে, তা স্পষ্ট করে গোলাম পরওয়ার বলেছেন, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শিল্প ও কৃষি উৎপাদন খরচ ব্যাপক বৃদ্ধি পাবে। কলকারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষি খাতে স্থবিরতা নেমে আসবে। চাল, ডাল, তেলসহ সব নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম আরও বাড়বে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠবে।
দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ খাতের নানামুখী অব্যবস্থাপনার দিকে আঙুল তুলে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বিদ্যুৎ খাতের সীমাহীন দুর্নীতি, অপচয় এবং ক্যাপাসিটি চার্জের নামে জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটের খেসারত দিতেই বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। জনগণের প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতা থাকলে এমন অমানবিক সিদ্ধান্ত সম্ভব হতো না।
বিদ্যুৎ খাতের যেকোনো ধরনের অপচয়, দুর্নীতি ও লুটপাটের সংস্কৃতি বন্ধ করার জোর দাবি জানিয়ে জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়, জনসাধারণের দুর্ভোগ বিবেচনায় গণবিরোধী ও অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। এ দাবিতে ঢাকা মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে ৪ জুন বিকেল পাঁচটায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে বিক্ষোভ সমাবেশ হবে।