
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুরে অবস্থিত ইন্সটিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি) টানা ১৬ দিন ধরে বিদ্যুৎহীন। বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় প্রতিষ্ঠানটির সব একাডেমিক কার্যক্রম অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সামনে গুরুত্বপূর্ণ চূড়ান্ত পরীক্ষা থাকা ২৮৮ শিক্ষার্থী পড়েছেন চরম মানসিক চাপ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে।
ট্রান্সফরমারের তার চুরির পর বিদ্যুৎ বিপর্যয়
আইএইচটি সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ সেপ্টেম্বর রাতে দুর্বৃত্তরা প্রতিষ্ঠানের পাওয়ার হাউসের গ্রিল কেটে ট্রান্সফরমারের গুরুত্বপূর্ণ তার খুলে নিয়ে যায়।
তার চুরি যাওয়ার পর বিদ্যুৎ সরবরাহে ভোল্টেজের ব্যাপক ওঠানামা শুরু হয়। এর ফলে আবাসিক হলের ফ্যান, লাইটসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম একে একে নষ্ট হতে থাকে।
একপর্যায়ে ট্রান্সফরমার ও বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণের মূল ইউনিট সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এরপর পুরো ক্যাম্পাস বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
২৮৮ শিক্ষার্থীর সবাই আবাসিক
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন এই প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ল্যাবরেটরি ও ফার্মেসি—এই দুটি বিভাগে ২৮৮ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। তাদের সবাই আবাসিক শিক্ষার্থী।
বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ না থাকায় আবাসিক হলের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
পরিস্থিতির কারণে ৭ সেপ্টেম্বর থেকেই শিক্ষার্থীদের হল ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ।
পরবর্তীতে বিকল্প হিসেবে সোলার সিস্টেম চালু করা হলেও সেটি দিয়ে পুরো ক্যাম্পাসের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।
গরম আর অন্ধকারে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাতে গোনা ১০ থেকে ১২ জন শিক্ষার্থী ছাড়া আবাসিক হলটি প্রায় পুরোপুরি ফাঁকা।
যারা এখনও হলে অবস্থান করছেন, তাদের তীব্র গরম ও অন্ধকারের মধ্যে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, এমনিতেই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার সময় ঘনিয়ে এসেছে। কিন্তু ঠিক এই সময়ে ক্যাম্পাস ও আবাসিক হল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সামনে চূড়ান্ত পরীক্ষা, বাড়ছে অনিশ্চয়তা
চতুর্থ বর্ষের শেষ সেমিস্টারের মৌখিক পরীক্ষা এবং অন্যান্য বর্ষের মূল সেমিস্টার সমাপনী পরীক্ষা খুব কাছেই। এমন পরিস্থিতিতে ক্লাস ও আবাসিক সুবিধা বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
ফার্মেসি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তৌফিক সরকার বলেন, ‘সামনে এত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা, অথচ পড়াশোনা তো দূরের কথা, টিকে থাকাটাই দায় হয়ে পড়েছে। আমরা দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনর্বহাল করে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছি।’
বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকার বিষয়ে জয়পুরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আক্কেলপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আবদুর রহমান সরকার বলেন, ট্রান্সফরমার পুড়ে যাওয়ার কারণেই প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
তিনি বলেন, ট্রান্সফরমারটি যেহেতু আইএইচটির নিজস্ব সম্পত্তি, তাই প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ নতুন ট্রান্সফরমার কিনে স্থাপন করলেই বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করার ব্যবস্থা করা হবে।
ট্রান্সফরমার পুড়ে যাওয়ায় ছুটি ঘোষণা
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আইএইচটির অধ্যক্ষ মো. আবদুল কুদ্দুস মণ্ডল বলেন, ‘তার চুরির পর ভোল্টেজ চরম ওঠানামা করায় বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ ও মূল ট্রান্সফরমারটি পুড়ে যায়। তীব্র অন্ধকারে হলে শিক্ষার্থীদের রাখা নিরাপদ ও মানবিক ছিল না। ফলে বাধ্য হয়ে ছুটি ঘোষণা করতে হয়েছে। নতুন ট্রান্সফরমার বসিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়া মাত্রই ছুটি বাতিল করে পুনরায় ক্লাস ও পরীক্ষার সূচি ঘোষণা করা হবে।’