
ঢাকায় নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যাঁ-মার্ক সেরে-শার্লেট বাংলাদেশের অর্থনীতি ও ব্যবসায়িক পরিবেশে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বিদেশি বেসরকারি সংস্থাগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ বা ব্যবসা করতে আগ্রহী হলে তাদের সমান সুযোগ প্রদান করা প্রধান শর্ত।
সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেলে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের জানান, “ফরাসি ও ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি প্রতিযোগিতামূলক ও সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। যেহেতু এগুলো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, তাই তাদের আসার সিদ্ধান্ত মূলত বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের ওপর নির্ভর করে। যদি তাদের যথাযথভাবে আকৃষ্ট করা যায় এবং সম্মানজনক আচরণ করা হয়, তবে তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত হবে।”
রাষ্ট্রদূত দুই দেশের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বের কথাও স্মরণ করিয়ে বলেন, ফ্রান্স বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দেশগুলোর মধ্যে একটি। তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে, বিশেষ করে জাতিসংঘে দুই দেশ একত্রে কাজ করার আগ্রহ রাখে। জ্যাঁ-মার্ক সেরে-শার্লেট সাক্ষাৎকারে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি “নতুন সূচনা” প্রয়োজনীয়তাও উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ একটি শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে সহযোগিতা গড়ে তুলতে চায় এবং ফ্রান্সও একই দর্শনে বিশ্বাসী। সামনের দিনগুলোতে অর্থনীতি, বাণিজ্য ও ব্যবসার ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।” আলোচনার অন্যান্য বিষয়গুলোর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং নারীর ক্ষমতায়নকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রদূত জানান, ফরাসি কূটনীতির অন্যতম অগ্রাধিকার হলো ‘নারীবাদী পররাষ্ট্রনীতি’, যা নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি দুই দেশের শিল্পী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনিময় কার্যক্রম বৃদ্ধির বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।
এছাড়া এয়ারবাস থেকে উড়োজাহাজ কেনার বিষয় নিয়েও রাষ্ট্রদূত বিশেষ বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। তিনি এয়ারবাসকে একটি উন্নত মানের প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করে আশা প্রকাশ করেন, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ বিমান বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। যদিও এটি বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল না, তবে বিষয়টি এখনও আলোচনার মধ্যে রয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বৈঠকের পর বলেন, “বাংলাদেশের সকল দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বন্ধুদের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তবে সব দেশের সঙ্গে সম্পর্কের মূল ভিত্তি হবে ‘বাংলাদেশ প্রথম’ নীতি।”