
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনকে শিল্পখাতের চাহিদার সঙ্গে সমন্বয় করে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প-বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বিভিন্ন শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরে সার্বিক সমন্বয় করছে ইউজিসি।
শনিবার (১৫ আগস্ট ২০২৬) খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্প সহযোগিতা: উদ্যোক্তা উন্নয়ন, উদ্ভাবন ও টেকসই উন্নয়ন’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. মামুন বলেন, দেশের শিল্পখাতের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে প্রায় পাঁচ লাখ শিক্ষার্থীকে বিশেষ প্রশিক্ষণের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে ইউজিসি। বিশ্ববাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক কর্মবাজারে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে এবং তৃতীয় ভাষা শেখানোর পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়নে ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে আধুনিক ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভাষাগত দক্ষতার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারে ইউজিসির চারটি উদ্যোগের কথা তুলে ধরে অধ্যাপক মামুন বলেন, প্রথমত, উচ্চশিক্ষার কারিকুলাম পর্যালোচনা ও হালনাগাদের ক্ষেত্রে শিল্পখাতকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, শিল্পপ্রতিষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ ও প্লেসমেন্টের সুযোগ তৈরিতে কাজ করা হচ্ছে।
তৃতীয়ত, বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচালিত গবেষণার ফলাফল শিল্পখাতে প্রয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চতুর্থত, বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবন ও নতুন প্রযুক্তিকে শিল্পখাতের উন্নয়নে কাজে লাগানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
তরুণ উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবকদের উৎসাহিত করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্টার্টআপ খাতে ৫০০ কোটি টাকা এবং সৃজনশীল অর্থনীতি খাতে ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এসব অর্থের একটি অংশ প্রযুক্তি, গবেষণা ও উদ্ভাবননির্ভর উদ্যোগে কার্যকরভাবে বিনিয়োগ করা গেলে তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
ইউজিসি সদস্য বলেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পখাত ও সরকারের মধ্যে সমন্বিত অংশীদারত্ব গড়ে তোলা প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়ে সৃষ্ট জ্ঞান, গবেষণা ও উদ্ভাবনকে শিল্পখাতের বাস্তব উন্নয়নে কাজে লাগানোর পাশাপাশি শিল্পখাতের চাহিদা ও অভিজ্ঞতাকেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।
এর মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা ও শিল্পখাতের মধ্যে একটি কার্যকর মেলবন্ধন তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হারুন রশিদ খান ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নুরুন্নবী। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী এবং শিল্পখাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে চারটি প্রতিষ্ঠানের সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষরিত হয়।