.jpg)
নাটোরের গুরুদাসপুরে রহস্যজনকভাবে দুই কলেজ শিক্ষকের নামে ডাকযোগে পাঠানো হয়েছে কাফনের কাপড়, যা ঘিরে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে গুরুদাসপুর পৌর সদরের রোজী মোজাম্মেল মহিলা কলেজে এই ঘটনা ঘটে। পোস্ট অফিসের মাধ্যমে পাঠানো বড় আকারের দুটি খাম কলেজে পৌঁছে দেন ডাক পিয়ন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ এসে কাফনের কাপড়গুলো জব্দ করে।
খাম দুটি পাঠানো হয় কলেজের ইসলাম শিক্ষা বিভাগের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক আব্দুস সামাদ এবং মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেনের নামে।
কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ওমর আলী জানান, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। ২০২২ সালের পর থেকে কলেজে ক্যাশ বই ব্যবহার না হওয়াসহ বিভিন্ন অনিয়ম রয়েছে। এসব খতিয়ে দেখতে তিনি একটি নিরীক্ষা কমিটি গঠন করেছেন। তাঁর ধারণা, এসব উদ্যোগে অসন্তুষ্ট কোনো পক্ষ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।
অফিস সহকারী দিল রুবা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে ডাকপিয়ন দুটি বড় খাম কলেজে দিয়ে যান। প্রাপকেরা উপস্থিত না থাকায় জরুরি নথি মনে করে খামগুলো গ্রহণ করা হয়। আনোয়ার হোসেনের নামে পাঠানো খামের প্রেরক হিসেবে উল্লেখ ছিল ‘মো. লিখন হোসেন, খরখরিয়া, তাড়াশ, সিরাজগঞ্জ’ এবং আব্দুস সামাদের খামের প্রেরক হিসেবে লেখা ছিল ‘জনি আহম্মেদ, ভাদাস, তাড়াশ, সিরাজগঞ্জ’।
জানা যায়, ৬ এপ্রিল খাম দুটি রেজিস্ট্রি করা হয় এবং প্রতিটির ওজন ৮৪০ গ্রাম উল্লেখ ছিল।
প্রভাষক আনোয়ার হোসেন বলেন, “বৃহস্পতিবার খামটি এলেও কলেজের ফোন পেয়ে রোববার সকালেই খামটি তিনি রিসিভ করেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আছে ভেবে খামটি খুলেই তিনি আতকে ওঠেন। দেখেন কাফনের কাপড়ের চার খণ্ডের পুড়ো সেট তাকে পাঠানো হয়েছে। প্রেরককে তিনি চেনেন না। কাফনের কাপড় পেয়ে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।”
সহকারী অধ্যাপক আব্দুস সামাদ জানান, তিনিও খাম খুলে একই ধরনের কাফনের কাপড় পান। প্রেরক সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না এবং কাউকে সন্দেহও করতে পারছেন না। ঘটনার পর থেকে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করার প্রস্তুতি চলছে।
কলেজের কয়েকজন শিক্ষক জানান, অধ্যক্ষ ও সভাপতির পদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব চলছিল। কলেজের প্রতিষ্ঠাতা বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য এম মোজাম্মেল হকের ছেলে আবু হেনা মোস্তফা কামাল রঞ্জু আগে সভাপতি ছিলেন। পরে তাকে সরিয়ে গত ৩০ মার্চ সহকারী অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদের স্বজন ওমর আলীকে সভাপতি করা হলে দ্বন্দ্ব আরও প্রকাশ্যে আসে। এছাড়া এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীসংক্রান্ত অভিযোগ নিয়েও আলোচনা রয়েছে।
অধ্যক্ষ মাহতাব উদ্দিন বলেন, শিক্ষকদের নামে এভাবে কাফনের কাপড় আসায় তিনি উদ্বিগ্ন। বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণভাবে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গুরুদাসপুর থানার ওসি মো. মঞ্জুরুল আলম বলেন, এ ঘটনায় আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। পুলিশ কাফনের কাপড় উদ্ধার করেছে এবং পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।