
খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকায় একই পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন এক বৃদ্ধা নারী ও তাঁর দুই শিশু নাতি। শনিবার সন্ধ্যায় একটি বাসা থেকে তাঁদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (৩০ মে) সন্ধ্যা ৬টার দিকে সোনাডাঙ্গা থানার তমিজউদ্দিন সড়কের দারুস আমান মহল্লায় শরিফুল ইসলামের ভাড়া বাড়ি থেকে লাশগুলো উদ্ধার করা হয়। নিহত ব্যক্তিরা হলেন—বেবী বেগম (৬৫), তাঁর নাতি শামিম (১২) ও মুস্তাকিম (৭)।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফাতেমা বেগম (৩৫) নামের এক নারী তাঁর দ্বিতীয় স্বামী রফিকুল ইসলামের সঙ্গে ওই বাসায় বসবাস করতেন। শনিবার সন্ধ্যায় সেই ঘরের ভেতর থেকেই তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত দুই শিশুই ফাতেমা বেগমের প্রথম পক্ষের সন্তান। প্রাথমিক তদন্তের ওপর ভিত্তি করে পুলিশ ধারণা করছে, পারিবারিক কলহের জেরে ফাতেমা বেগমের দ্বিতীয় স্বামী রফিকুল ইসলাম এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়ে গিয়ে থাকতে পারেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘ সময় ধরে ওই ঘরের ভেতর থেকে কোনো ধরনের সাড়া-শব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীদের মধ্যে তীব্র সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি থানা পুলিশকে জানানো হলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের দরজা খুলে তিনজনের লাশ উদ্ধার করে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রায় চার বছর আগে ফাতেমা বেগমের সঙ্গে তাঁর প্রথম স্বামী মাসুম বেপারীর বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। এরপর থেকে তাদের দুই সন্তান শামিম ও মুস্তাকিম মায়ের কাছেই বড় হচ্ছিল। পরবর্তীতে ফাতেমা বেগম রফিকুল ইসলাম নামের ওই ব্যক্তিকে বিয়ে করেন এবং নতুন সংসার শুরু করেন।
ভয়াবহ এই হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে লাশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং অভিযুক্ত রফিকুল ইসলামকে আটকের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানানো সম্ভব হবে।