
ভারতের আহমেদাবাদে থাকা নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামকে ছাড়িয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে হায়দরাবাদে। তেলেঙ্গানার প্রস্তাবিত ‘ফিউচার সিটি’ এলাকায় নির্মিতব্য স্টেডিয়ামটিতে ১ লাখ ৩২ হাজারের বেশি দর্শকের বসার ব্যবস্থা থাকবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের ডিসেম্বরেই নতুন এই স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হতে পারে। এর মধ্য দিয়ে বিশাল পরিসরের এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হবে। প্রকল্পটি নিয়ে ক্রিকেট প্রশাসন ও তেলেঙ্গানা সরকারের মধ্যে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা চলছে।
প্রস্তাবিত স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য জমি দেবে তেলেঙ্গানা সরকার। অন্যদিকে নির্মাণ ব্যয় বহনের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেওয়ার কথা রয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের (বিসিসিআই)।
স্টেডিয়ামটি শুধু একটি ক্রিকেট ভেন্যু হিসেবে গড়ে তোলা হবে না। এটি ‘ফিউচার সিটি’র বৃহত্তর ‘স্পোর্টস সিটি’ প্রকল্পের অংশ হবে। তেলেঙ্গানার কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে ‘নেট-জিরো সিটি’ গড়ে তোলার যে পরিকল্পনা রয়েছে, তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই ফিউচার সিটি। ফলে নতুন স্টেডিয়ামটিও পরিবেশবান্ধব নগর পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্মাণের লক্ষ্য রয়েছে।
লর্ডসের আদলে হতে পারে নকশা
প্রস্তাবিত স্টেডিয়ামের নকশায় ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার আধুনিক ও বিখ্যাত স্টেডিয়ামগুলোর স্থাপত্যশৈলীর প্রভাব থাকতে পারে। ঐতিহ্য ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে একটি আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট ভেন্যু তৈরির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
তবে এখনো কোনো নির্দিষ্ট স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান বা নকশা পরামর্শককে চূড়ান্ত করা হয়নি। প্রকল্পের ব্যাপকতা এবং ভবিষ্যৎ নগর কাঠামোর সঙ্গে স্টেডিয়ামটির সমন্বয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নকশার কাজ এগিয়ে চলছে।
চূড়ান্তভাবে নির্মাণ শেষ হলে স্টেডিয়ামটিতে ১ লাখ ৩২ হাজারের বেশি দর্শক একসঙ্গে খেলা উপভোগ করতে পারবেন। বিশাল দর্শক ধারণক্ষমতার পাশাপাশি আধুনিক অবকাঠামো ও স্থাপত্যশৈলীর সমন্বয়ে এটিকে বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্রিকেট ভেন্যু হিসেবে গড়ে তুলতে চায় ভারত।
যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিশেষ গুরুত্ব
স্টেডিয়ামের অবস্থান নির্ধারণের সময় যোগাযোগব্যবস্থাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এটি হায়দরাবাদের আউটার রিং রোড ও রিজিওনাল রিং রোড—দুটির সঙ্গেই সরাসরি যুক্ত থাকবে। ফলে শহর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শকদের স্টেডিয়ামে যাতায়াত সহজ হবে।
এ ছাড়া স্টেডিয়াম এলাকার পরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও যুক্ত থাকবে। ফলে আন্তর্জাতিক ম্যাচ বা বড় কোনো টুর্নামেন্টে হায়দরাবাদে আসা বিদেশি খেলোয়াড়, দল ও দর্শকদের জন্য যাতায়াত আরও সুবিধাজনক হবে।
পরিকল্পিত মেট্রোরেল সম্প্রসারণের আওতায় ‘ফিউচার সিটি’ এলাকাটিকেও যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে ম্যাচের দিন বিপুলসংখ্যক দর্শকের জন্য দ্রুত ও সক্ষম গণপরিবহনের সুযোগ তৈরি হবে।
সব মিলিয়ে, রেকর্ডসংখ্যক দর্শক ধারণক্ষমতা, আধুনিক অবকাঠামো, পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনা এবং উন্নত যোগাযোগব্যবস্থার সমন্বয়ে হায়দরাবাদের এই স্টেডিয়ামকে বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম আকর্ষণীয় ভেন্যু হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।