
লিওনেল মেসিকে দেখতে গিয়ে প্রতারিত হওয়া প্রায় ৩৩ হাজার দর্শকের টিকিটের অর্থ ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। কলকাতার যুবভারতী স্টেডিয়ামে গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর মেসিকে ঘিরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ব্যাপক বিশৃঙ্খলার পর থেকেই ক্ষুব্ধ দর্শকেরা টিকিটের টাকা ফেরতের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত দর্শকদের অর্থ ফেরত দেওয়ার উপায় খুঁজছে রাজ্য সরকার। তবে টাকা ফেরত দেওয়ার আগে বিষয়টি প্রশাসনিক ও আইনি দিক থেকে যাচাই করে দেখা হচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই অনুষ্ঠানের টিকিটের মূল্য ছিল ৪ হাজার ও ৬ হাজার রুপি।
মেসির উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠানে ব্যাপক ভিড় ও নিরাপত্তাজনিত বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। এর ফলে মাঠে মেসির নির্ধারিত উপস্থিতিও প্রত্যাশার তুলনায় অনেক আগেই শেষ হয়ে যায়। পরে আর্জেন্টিনার অধিনায়কের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিরাপত্তা ও প্রটোকল ভঙ্গের কারণে অনুষ্ঠানটি নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ করতে হয়েছিল।
ঘটনার পর ক্ষুব্ধ দর্শকদের অনেকেই টিকিটের অর্থ ফেরতের দাবি জানান। এবার সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই প্রায় ৩৩ হাজার দর্শককে টাকা ফেরত দেওয়ার উদ্যোগের কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী।
এ প্রসঙ্গে এক ডেলিভারিকর্মীর কথাও উল্লেখ করেছেন শুভেন্দু। মেসিকে একনজর দেখার আশায় ওই ব্যক্তি তাঁর পুরো বছরের সঞ্চয় খরচ করেছিলেন বলে জানান তিনি। শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খলার কারণে তাঁর সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। এতে ঘটনাটি নিয়ে ভক্তদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।
শুভেন্দু বলেন, ‘মেসির মতো একজন খেলোয়াড়কে দেখতে গিয়ে কেলেঙ্কারি হয়েছে। মেসির বিরাট জনপ্রিয়তা। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম ৬-৮ হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটে প্রতারিত হয়েছে। একজন খাবার সরবরাহকারী কর্মীও সে দিন মেসিকে দেখবেন বলে সারা বছরের জমানো টাকা খরচ করেছিলেন। সেই টাকাও যাতে ফেরত দিতে পারি, আমরা তার চেষ্টা করছি।’
ঘটনাটি নিয়ে তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসও তদন্তের মুখে পড়েছেন। এ নিয়ে আইনি প্রক্রিয়াও চলছে। সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্ট তাঁর অন্তর্বর্তী সুরক্ষার মেয়াদ বাড়িয়েছে এবং একই সঙ্গে তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে।