
তিন বছর ধরে কারাগারে রয়েছেন পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি ক্রিকেটার ও দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ইতোমধ্যে একাধিক মামলায় কারাদণ্ডও পেয়েছেন তিনি। তবে পরিবারের অভিযোগ, কারাগারে ইমরানকে যথাযথভাবে পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। এ নিয়ে বিভিন্ন দেশের সাবেক কিংবদন্তি ক্রিকেটাররা সরব হয়েছেন এবং পাকিস্তান সরকারের কাছে চিঠিও দিয়েছেন।
এবার পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ইমরান খানের পাশে দাঁড়ালেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। কারাবন্দী সাবেক এই ক্রিকেটারের যথাযথ চিকিৎসা এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক। বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছেন এমন অধিনায়কদের মধ্যে কামিন্সই প্রথম, যিনি ইমরান খানের জন্য সরাসরি কথা বললেন।
এর আগে গত ২৪ আগস্ট ইমরান খানের চিকিৎসা ও ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবিতে একযোগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে চিঠি লিখেছেন ২১ জন সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক। কামিন্সও সেই চিঠির প্রতি নিজের সমর্থনের কথা জানিয়েছেন।
ইমরানের চিকিৎসা ও ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবিতে লেখা ওই চিঠিতে সই করেছেন মাইকেল আথারটন, অ্যালান বোর্ডার, মাইক ব্রিয়ারলি, গ্রেগ চ্যাপেল, ইয়ান চ্যাপেল, অ্যালিস্টার কুক, মাইক গ্যাটিং, সুনীল গাভাস্কার, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, ডেভিড গাওয়ার, নাসের হুসেইন, ক্লাইভ লয়েড, কপিল দেব, অর্জুনা রানাতুঙ্গা, অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস, দিলীপ ভেংসরকার, স্টিভ ওয়াহ ও জন রাইটের মতো কিংবদন্তি ক্রিকেটাররা। তাদের সঙ্গে রয়েছেন নারী ক্রিকেটের কিংবদন্তি বেলিন্ডা ক্লার্ক ও অ্যালেক্স ব্ল্যাকওয়েলও।
সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার ‘দ্য গ্রেড ক্রিকেটার’ শোতে এই চিঠি কেন লেখা হয়েছে, তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন গ্রেগ চ্যাপেল। সেখানে তিনি বলেন, ‘ইমরানের বয়স এখন ৭৩ বছর। ছয় বছর আগে পাকিস্তানে তার সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল। তখনো তিনি ছিলেন শক্ত–সামর্থ। এখন আর তেমনটা নেই। তার ডান চোখে নাকি সমস্যা দেখা দিয়েছে, তিনি কষ্টে আছেন। তিন বছর ধরে একা আছেন।’
গ্রেগ চ্যাপেল আরও বলেন, ‘আমি জানি না, কীভাবে কেউ এটা সামলায়। শারীরিক ও মানসিকভাবে ইমরান আমার বিপক্ষে খেলা অন্য যেকোনো ক্রিকেটারের চেয়ে শক্তিশালী ছিলেন। কিন্তু তিন বছর ধরে সম্পূর্ণ একাকিত্ব কীভাবে সামলাতে হয়, আমি জানি না।’
তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় না, তাকে বই পড়ার অনুমতি দেওয়া হয়। মোটামুটি তাকে সেখানে বসে থাকতে হয় এবং নিজেকেই গোসল করতে হয়। আর বেশির ভাগ সময় তিনি অন্ধকারের মধ্যে থাকেন। এটা আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। আর আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি হলে শারীরিক স্বাস্থ্যও খারাপ হতে থাকবে। তার নিজের বা তার পরিবারের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধাও নেই।’
এক্সে ওই ভিডিও শেয়ার করে প্যাট কামিন্স লিখেছেন, ‘গ্রেগ চ্যাপেল এবং অন্য সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়কদের সঙ্গে আমিও আমার সমর্থন জানাচ্ছি। আমি আশা করি, আদালতের নির্দেশে যে চিকিৎসাসেবার কথা বলা হয়েছে, সেটি যথাযথভাবে সম্পন্ন করার সুযোগ দেওয়া হবে এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎও অব্যাহত থাকবে। আমি আশা করি, ইমরান খানের সঙ্গে মর্যাদাপূর্ণ আচরণ করা হবে, যে মর্যাদা প্রত্যেক মানুষের প্রাপ্য।’