
৪০ মিনিটে লিড নেওয়ার পর বিরতির ঠিক আগে গোল হজম করে কিছুটা চাপে পড়ে রিয়াল মাদ্রিদ। সমর্থকদের দুয়োও শুনতে হয় তাদের। তবে দ্বিতীয়ার্ধে যেন বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। আক্রমণের ঝড় তুলে কিলিয়ান এমবাপের হ্যাটট্রিকে রিয়াল সোসিয়েদাদকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে হোসে মরিনিয়োর দল।
এই জয়ে মৌসুমের শুরুতেই টানা দুই ম্যাচ জিতল রিয়াল। ম্যাচে একটি গোল করার পাশাপাশি একটি অ্যাসিস্ট করেছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। আর জুড বেলিংহ্যাম করেছেন দুটি অ্যাসিস্ট।
সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে মৌসুমের প্রথম ম্যাচে শুরুটা অবশ্য স্বাগতিকদের জন্য খুব একটা স্বস্তির ছিল না। দুই দলই গোলের সুযোগ তৈরি করে। ১১ মিনিটে প্রথম বড় সুযোগ পায় সোসিয়েদাদ। ডি-বক্সের ভেতর ফাঁকা জায়গায় বল পেয়ে মিকেল ওইয়ারজাবাল শট নিলেও থিবো কোর্তোয়া তা ঠেকিয়ে দেন। অন্য প্রান্তে ভিনিসিয়ুসও গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন, তবে তার শট পা দিয়ে প্রতিহত করেন সোসিয়েদাদের গোলরক্ষক অ্যালেক্স রেমিরো। ৩৫ মিনিটে সফরকারীদের আরেকটি শট দূরের পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়।
৪০ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোল পেয়ে যায় রিয়াল। ফেদে ভালভার্দের বাড়ানো দারুণ পাস এক স্পর্শে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে নিখুঁত শটে বল জালে পাঠান এমবাপে। তবে সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। রিয়ালের এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে সোসিয়েদাদের একটি শট ফিরে এলে বল পেয়ে যান ক্রোয়াট মিডফিল্ডার লুকা সুসিক। এরপর কোনাকুনি শটে কোর্তোয়াকে পরাস্ত করে ম্যাচে সমতা ফেরান তিনি।
বিরতির পর পুরোপুরি আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে রিয়াল। ৬০ মিনিটে আবারও এগিয়ে যায় তারা। বেলিংহ্যামের সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়ার পর জায়গা তৈরি করে কোনাকুনি শটে গোলরক্ষক রেমিরোকে পরাস্ত করেন এমবাপে।
এর আট মিনিট পর ব্যবধান আরও বাড়ায় রিয়াল। বেলিংহ্যামের আরেকটি দারুণ প্রচেষ্টায় গোল পান ভিনিসিয়ুস। সোসিয়েদাদের রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বাইলাইন থেকে বল বাড়িয়ে দেন বেলিংহ্যাম, আর সেটিই কাজে লাগান ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।
৮০ মিনিটে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এমবাপে। ভিনিসিয়ুস প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের দুই পায়ের মাঝ দিয়ে দুর্দান্ত থ্রু বল বাড়ান। সেই বল পেয়ে ছয় গজ বক্সের ঠিক বাইরে থেকে শটে সোসিয়েদাদের জালে পাঠান ফরাসি তারকা। তাতেই নিশ্চিত হয়ে যায় রিয়ালের বড় জয়।
এরপর ভিএআরে ব্রাহিম দিয়াজের একটি গোল বাতিল হয়। ফলে স্কোরলাইনে আর পরিবর্তন আসেনি। শেষ পর্যন্ত ৪-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রিয়াল মাদ্রিদ। টানা দুই জয়ে লা লিগার পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থানও দখলে নিয়েছে তারা।